বুধবার ১১ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে কুটির শিল্পের কারিগরদের দুর্দিন

প্রতিনিধি, রামগতি (লক্ষ্মীপুর) :

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির প্লাষ্টিকের কদর বাড়ায় ও প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে লক্ষ্মীপুরের বাঁশ ও বেতের তৈরি কুটির শিল্পের কারিগরদের মাঝে নেমে এসেছে দুর্দিনের ছায়া। কিন্তু কালের বিবর্তনে ব্যবহারিক জীবনে অতি প্রয়োজনীয় বাঁশ ও বেতের তৈরি কুটির শিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কুটির শিল্প সামগ্রীর চাহিদা কমতে থাকা, বাঁশ ও বেতের দাম বেড়ে যাওয়া, ঋণ এবং দাদনের দেনা তাদের কাঁধে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, বাঁশ ও বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িত শত শত পরিবার বর্তমানে চরম দুর্দিনের মধ্যে জীবনযাপন করছে। এই অঞ্চলের শত শত পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ বাঁশ ও বেত শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে তারা নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রয়োজনীয় ঋণ, পুঁজি, মজুরি কম থাকার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শত শত শ্রমিক আজ প্রায় বেকার। এসব শ্রমিক বংশানুক্রমে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। গ্রামের ঘরে এখন আর এগুলো আগের মত চোখে পড়েনা। অথচ এক সময় বাঁশ ও বেতের তৈরী জিনিসপত্র কিংবা এসব ছাড়া গ্রামীণ জীবনধারা কল্পনা করাও কঠিন ছিল। যেখানে বসতি সেখানেই বাঁশ, বেতের তৈরির জিনিসপত্র, কিন্তু আজ তা আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য থেকে মুছে যাচ্ছে। এই গ্রামবাংলার কুটির শিল্প নিয়ে কবি সাহিত্যিকরা রচনা করেছিলেন কবিতা ও গল্প। বাউলরা গেয়েছেন গান। আগেকার দিনে গ্রামের প্রায় বাড়িতেই বাঁশ, বেত দিয়ে তৈরি করা হতো হরেক রকমের সরঞ্জাম। জীবিকা অর্জনের মাধ্যমও ছিল বাঁশ এবং বেত।

সূত্র জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৩ শতাধিক কারিগর বাঁশের তৈরী গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন তারা।


জেলা সদরের চররুহিতা ইউনিয়নের চর লামচী, পশ্চিম লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার, তেওয়ারীগঞ্জের শহর কসবা, বাঙ্গাখা ইউনিয়নের বাবুপুর, রায়পুরের হায়দরগঞ্জসহ মোট ৮-১০টি গ্রামে নারী-পুরুষ তাদের নিপুণ হাতে তৈরি কুলা, চাটাই, হাঁস-মুরগির খাঁচা, সাজি, ঢাকনা, চালনি, পালা, খাঁচা, মোড়া বেতের ধামা, পাতিল, চেয়ার, টেবিল, দোলনা, খারাই, পাখা, বই রাখার র‌্যাক, ঘুনি, ডালা, ঝুড়ি ইত্যাদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় শিল্পসামগ্রী জেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা ও বাজারগুলোতে বিক্রি করা হয়।

কুঠির শিল্প কারিগররা জানান, পূর্বপুরুষ থেকে এ পেশায় জড়িত রয়েছেন তারা। আগে এক একটি বাঁশ কিনতে হতো ৫০ থেকে ১২০ টাকা দরে। আর এখন প্রতিটি বাঁশ কিনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।
এক সময় গ্রামীণ বাজারে বাঁশের তৈরী পন্যের বেশ চাহিদা থাকলেও বর্তমানে প্লাষ্টিক পন্যের কারণে এ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। সেই সাথে বাঁশের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় তারা সমস্যায় ভুগছেন, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাতসহ তাদের চরম দুর্দিন যাচ্ছে এখন।

কারিগরদের দাবি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা পেলে পুনরায় উজ্জীবিত হবে এই শিল্প। বাঁশ শিল্প কেন্দ্রিক সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণে ভাগ্য বদলে যেতে পারে এ অঞ্চলের কারিগরদের।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১