আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মেহেরাজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নোয়াখালীর সুধারাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক মামুন হত্যাকান্ডে তার নিজের ও সহযোগী ঘাতক তানভীর এবং রাশেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এই ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দেয়।
আসামির স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল নোয়াখালীর একটি মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৬ মার্চ বুধবার ধৃত আসামি মামুন বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
এরআগে গত ৪ মার্চ সোমবার গভীর রাতে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য নোয়াখালীর সুধারাম থানার উদয় সাধুরহাট (ওদার হাট) এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকন্ডের মূলহোতা মামুনকে গ্রেপ্তার করেন।
জানা যায়, মামলার ভিকটিম মেহেরাজ (১৯), তানভীর (২০) ও মামুন (১৯) পরস্পর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও একই এলাকার বাসিন্দা। ঘাতক তানভীর ও মামুন উভয়েই নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার উদয় সাধুরহাট (ওদার হাট) বাজারের সততা বস্ত্রালয়ের কর্মচারী। বৃষ্টি নামের একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরধরে খুনি তানভীর ও ভিকটিম মেহেরাজের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। যার কারণে তানভীর মেহেরাজকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ হত্যা পরিকল্পনায় ঘাতক মামুন তার বন্ধু তানভীর ও আরেক বন্ধু রাশেদকেও যুক্ত করে।
এর ধারাবাহিকতায় বিগত ২৪ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকালে তারা উদয় সাধুরহাট বাজারের একটি দোকান থেকে চেতনা নাশক ওষুধ, অপর একটি মুদি দোকান থেকে প্লাষ্টিকের দুটি সাদা রঙের বস্তা ও একই বাজারের অপর কনফেকশনারী দোকান থেকে ৫টি স্পীড কোল্ড ড্রিংকস কিনে ৪ বন্ধু মিলে তারা একটি জারা মোটরসাইকেলযোগে সুধারাম থানাধীন মুন্সী তালক গ্রামের দিকে যায়। সেখানে রাস্তার উপরে মোটর সাইকেল রেখে ৪ বন্ধু মিলে একটি নির্জন খোলা মাঠে গিয়ে আড্ডা দেয়। আড্ডার একপর্যায়ে সন্ধ্যা অনুমান ৭টার দিকে তিন বন্ধু কৌশলে ভিকটিম মেহেরাজকে চেতনা নাশক ওষুধ মিশানো ‘স্পীড কোল্ড ড্রিংকস’ পান করায়।
কিছুক্ষণের মধ্যে মেহেরাজ অজ্ঞান হয়ে পড়লে আসামিরা ভিকটিমের প্যান্টের বেল্ট গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে তারা মৃতদেহটি বস্তাবন্দী করে ফেলে। এরপর তানভীর ও মামুন একই মোটরসাইকেলযোগে বস্তাবন্দী মৃতদেহটি ঘটনাস্থল থেকে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামের টক্কারপোল নামকস্থানে নিয়ে রাত ৮টার দিকে ব্রীজের ওপর থেকে পানিতে ফেলে দেয়। এরপর ঘাতক তানভীর মোটর সাইকেলযোগে ও মামুন ভাড়া করা সিএনজিযোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বস্তাবন্দী মৃতদেহটি ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে ভিকটিমের পরিবার মৃতদেহটি মেহেরাজের বলে শনাক্ত করেন। এরপর চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন দাসেরহাট ফাঁড়ির পুলিশ গিয়ে টক্কারপোল নামক এলাকার ব্রীজের নীচে খাল থেকে বস্তবন্দী অবস্থায় ভিকটিম মেহেরাজের লাশ উদ্ধার করেন। ভিকটিম মেহেরাজ নোয়াখালীর সুধারাম থানার উত্তর হুগলী গ্রামের শাহজাহানের পুত্র।
চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ মেহেরাজ হত্যা রহস্যের বর্ণনা দিয়ে জানান, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।