
লক্ষ্মীপুরে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মোনাজাত করছেন প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ছবি : আকাশবার্তাবিডি.কম
আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয় আর বিএনপি ক্ষমতায় এসে করে লুটপাট। সারাদেশে গত ৮ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। লক্ষ্মীপুরেও খালি হাতে আসিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তির ধর্ম ইসলাম কখনও মানুষ হত্যা সমর্থন করে না। অথচ আমাদের ছেলে মেয়েদের ইসলামের নামে মানুষ হত্যায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা যাতে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে আমাদের অভিভাবকদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে কোরআন শরীফে আগুন দিয়েছে। যারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে তাদের আবার কিসের ধর্ম। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টায় লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
৩৫ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের যা কিছু হয়েছে তা করেছে আওয়ামীলীগ। আর বিএনপি করেছে ধ্বংস ও নৈরাজ্য। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা ইসলাম সমর্থন করে কীনা প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে জনগণের ভোটে আমরা পুনরায় ক্ষমতায় এসে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করেছি। আর বিএনপি পদ্মাসেতু যেন না হয় তার জন্য বিশ্বব্যাংকে দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার বই বিনামূল্যে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছি। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ আসে দিতে আর বিএনপি ক্ষমতায় আসে লুটপাট করতে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয় করণ করেছেন। আমি ক্ষমতায় এসে এবার ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করেছি। প্রায় এককোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবেনা। প্রত্যেক মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় এবং উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃহত্তম নোয়াখালীতে প্রথম জাতির পিতা আদর্শ গ্রাম এবং গুচ্ছ গ্রাম শুরু করেছিলেন। ১৯৯৭ সালে আমি ক্ষমতায় এসে লক্ষ্মীপুরে ফেরী সার্ভিস চালু করেছি, আশ্রয়হীন মানুষকে ঘর করে দিয়েছি। তিনি বলেন, বর্গা চাষীদের ঋণ চালু করে দিয়েছি, আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পন্ন।
প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে খালী হাতে আসেননি উল্লেখ করে বলেন, আপনাদের জন্য নৌ-বন্দর স্থাপন করার উপহার নিয়ে এসেছি। এ সময় তিনি সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করণ এবং লক্ষ্মীপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি লক্ষ্মীপুরের কোনো উন্নয়ন করেনি। তাদের সরকারের আমলে আমাদের ১৩ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী হামলা-মামলার ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারেনি।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের সঞ্চালনায় জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় ৪ সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল, আব্দুল্যাহ আল মামুন, মোহাম্মদ নোমান, লায়ন এমএ আউয়াল, পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আবু তাহের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে কমিটি করতে হবে। দলীয় কোন্দল বরদাসত করা হবেনা। সরকারের এত উন্নয়ন কারো অপকর্ম আর অপরাধের কারণে ম্লাণ হতে পারেনা। তিনি আরো বলেন, আপনাদের কাজ মানুষের ভালবাসা আদায় করা, মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করা। কেউ অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া হবেনা।
এরআগে প্রধানমন্ত্রী রামগতি ও কমলনগর মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম পর্যায়), চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ ভবন, সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম, কমলনগর উপজেলা পরিষদ ভবন, কমলনগর উপজেলা অডিটোরিয়াম, লক্ষ্মীপুর পৌর আইডিয়াল কলেজ ভবন, মোহাম্মদিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নির্মাণ (৩য় ও ৪র্থ), কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও প্রাণী হাসপাতাল উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন করেন।
এছাড়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, প্রশাসনিক ভবন ও নাবিক নিবাস-কোস্টগার্ড মজু চৌধুরীর হাট, পুলিশ অফিসার্স মেস লক্ষ্মীপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ি, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, লক্ষ্মীপুর খাদ্যগুদামে ৫০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন গুদাম নির্মাণ, রামগঞ্জ উপজেলায় ১৩২/৩৩ কেবি গ্রিড উপ-কেন্দ্র নির্মাণ, পিয়ারাপুর সেতু, চেউয়াখালী সেতু, মজু চৌধুরীর হাটে নৌ বন্দর, লক্ষ্মীপুর পৌর আধুনিক বিপণী বিতান, রামগঞ্জে আনসার ও ভিডিপি ব্যাটালিয়ন সদর দফতর কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীপুর পৌর আজিম শাহ (রা.) হকার্স মার্কেট, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ একাডেমিক ভবন কাম পরীক্ষা কেন্দ্র, লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইন্স মহিলা ব্যারাক নির্মাণ, লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়কে পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, রায়পুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ও কমলনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।