আগামীকাল রোববার (১০ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। প্রথমধাপে হবে ৮০টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে। গতকাল মধ্যরাত থেকেই বন্ধ হয়েছে সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের জন্য বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো চলছে। সকাল থেকে জেলা সার্ভার স্টেশন থেকে উপজেলাগুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল ও প্যাড, এজেন্ট কার্ডসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলার তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তবে আগামীকাল ৮০ উপজেলায় ভোট হবে প্রথম ধাপে।এর মধ্যে আদালতের আদেশে রাজশাহীর পবা উপজেলার ভোট স্থগিত হয়ে যায়। জামালপুরের মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা এবং নাটোরের সদর উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান- এই তিন পদে জয়লাভ করেন বিধায় এখানেও ভোট হবে না।
অন্যদিকে ন্যায়সংগত, নিরপেক্ষ ও আইন অনুযায়ী নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে নেত্রকোনার পূর্বধলা, লালমনিরহাটের আদিতমারী এবং সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভোট স্থগিত করেছে ইসি। এছাড়া নীলফামারী সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে এই উপজেলায় ভোট হবে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফলে আগামীকাল ১০ মার্চ সংশ্লিষ্ট ৮০ উপজেলার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। প্রথম ধাপের ভোটের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বরাবর গত ৩ মার্চ আবেদন করে ইসি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ৮০ উপজেলায় সাধারণ ছুটি গত ৬ মার্চ ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এস এম শাহীনের সই করা নথিতে বলা হয়, ‘পঞ্চম উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের দিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/ সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনের শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে নির্বাচনকালীন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।’
তবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যদি কোনো পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মচারীরা সাধারণ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়। প্রথম পর্যায়ের তফসিল অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ১২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি। আগামীকাল ১০ মার্চ ভোট হবে।
যে ৮০ উপজেলায় ভোট হবে সেগুলো হলো- রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় সদর উপজেলা, আটোয়ারী, বোদা, দেবীগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া; কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, রাজারহাট, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী ও রৌমারী উপজেলা; নীলফামারী সদর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা এবং লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ উপজেলা।
ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা এবং নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা, দুর্গাপুর, খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, কলমাকান্দা ও মদন উপজেলা।
সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলা এবং হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, মাধবপুর, চুনারুঘাট, লাখাই, নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলা।
রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী, কাজীপুর, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলা; জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলা; নাটোরের বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, লালপুর ও সিংড়া; রাজশাহী জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট ও বাঘা উপজেলা।