সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে গুলি করে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধানকে হত্যা লক্ষ্মীপুরে ৫ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে ব্রিকফিল্ড মালিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন : চলছে সংস্কার কাজ মান্দারী ক্লাবের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি বাবলু, সম্পাদক জাহিদ  লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে মব করে অপহরণ, ছাত্রদল নেতা আটক লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক

আজ বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস

আকাশবার্তা ডেস্ক :

আজ ১৭ মার্চ। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন। সারাদেশে দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসাবেও উদযাপিত হচ্ছে। ১৯২০ সালের এদিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বড় হয়ে এই সাহসী ছেলেটিই একদিন বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানের নব্য ঔপনিবেশিক ও দাসত্বের শৃঙ্খল হতে মুক্ত করেন। হাজার বৎসরের আরাধ্য ও প্রত্যাশিত স্বাধীন-সার্বভৌম ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। ভাষা আন্দোলন হতে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁর আজীবন ত্যাগ ও তিতিক্ষার জন্য আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। স্বাধীন জাতি হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা ঊঁচু করে দাঁড়াতে পারছি। তাই বাঙালি জাতি চিরকাল শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সহিত তাঁকে স্মরণ করতে হবে।

প্রতি বৎসর মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী নূতন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল আলোকবার্তা বয়ে আনে। দেশ গড়ার অনুপ্রেরণা তারা এই অকুতোভয় নেতার নিকট হতেই লাভ করেন। জীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি বাঙালির সার্বিক মুক্তির জয়গান গেয়েছেন। যৌবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন কারাগারে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি বলেছেন, ‘আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা’। গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে তিনি যখন ইসলামিয়া কলেজে পড়েন, তখন হতে তিনি ওতপ্রোতভাবে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে অধ্যয়নকালেই তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা ফজলুল হকসহ তদানীন্তন বাংলার প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন। নেতৃত্ব, ত্যাগ ও অধ্যবসায়ের গুণেই টুঙ্গীপাড়ার এই সন্তান একদিন বাঙালি জাতির গর্বের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেন। বাঙালি জাতির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও তিনি দ্বিধা করেন নাই।

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর জন্মদিনটি সে দেশে ‘শিশুদিবস’ হিসাবে পালিত হয়। অন্যদিকে একটি স্বাধীন দেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি আমাদের দেশে পালিত হচ্ছে শিশু দিবস হিসাবে। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ প্রথমবারের ন্যায় এই দিনটি শিশু দিবস হিসাবে উদযাপিত হয় সরকারিভাবে। ২০০১ সালের পর মধ্যখানে চার দলীয় জোট সরকারের হস্তক্ষেপে এই দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত না হলেও দলীয় ও বেসরকারিভাবে উদযাপিত হয়েছে ঠিকই। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতাসীন হবার পর এই দিনটিও আগের মতো যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়ে আসছে। আমরা মনে করি, এই দিনটি শিশুদের দিন হিসাবে নির্দিষ্ট করার যথেষ্ট কারণ ও যুক্তি রয়েছে। কেননা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের অত্যন্ত আদর করতেন। ভালোবাসতেন মনে-প্রাণে। তিনি বিশ্বাস করতেন আজকের শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। আগামীতে দেশ গড়ার নেতৃত্ব তারাই দিতে হবে। এজন্য তিনি চাইতেন শিশুরা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, মর্যাদা ও মহিমায় সমৃদ্ধ হউক। সৃজনশীল ও মুক্তমনের মানুষ হিসাবে গড়ে উঠুক। বঙ্গবন্ধু কোনো শিশুদের সমাবেশে গেলে বা শিশুরা বঙ্গভবনে তাঁর সংস্পর্শে আসলে তিনি তাদের সঙ্গে মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে যেতেন। কেননা বঙ্গবন্ধুর ছিল একটি শিশুসুলভ মন। এ কোমল মনের কারণেই তিনি কোমলমতি শিশুদের আনন্দ-খুশিতে শরিক হতেন অবলীলায়।

বর্তমানে দেশের ১৬ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৬ কোটিই শিশু। তাই শিশুদের উন্নয়ন ব্যতীত বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন অসম্ভব। গ্রামেগঞ্জে এখনও শিশুর অপুষ্টি একটি প্রধান সমস্যা। সকলকে এ ব্যাপারে হতে হবে সজাগ ও সচেতন। তবেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ হবে। তার জন্মদিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসাবে পালনও মূলত একটি সার্থক, সুন্দর ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রয়াস।

 

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31