আল মামুন শিপন, সৌদিআরব :
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, ভারপ্রাপ্তে কন্স্যাল আমিনুল ইসলাম। এ সময় কনস্যুলেটের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনায় ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল আমিনুল ইসলাম দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রবাসীদের মাঝে বক্তব্য প্রদান করেন। ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য একটি দিন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১৯৭১ সালের এদিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকে মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়।
অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে যায় মেহেরপুরের মুজিবনগর। এরআগে ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ও নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের জন্য অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়।
অস্থায়ী এ সরকারের রাষ্ট্রপতি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তারা শপথ প্রহণ করেন ১৭ এপ্রিল। সেদিন মুজিবনগরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
এ সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। এ কারণে তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। সরকারে আরো ছিলেন অর্থমন্ত্রী এম মনছুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী হিসেবে কামারুজ্জামান।