আকাশবার্তা ডেস্ক :
দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডনে লন্ডনে যাওয়া সংক্রান্ত কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক আবদুল মোমেন। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রুনাই সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব কামরুল আহসান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে খরব প্রকাশিত হয়, বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লন্ডন যেতে পারেন। এ বিষয়ে ব্রিটিশ দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কিছু জানিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালত পাঁচ বছর সাজা দেন খালেদা জিয়াকে। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির আবেদন (রিভিশন) করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের আবেদন গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা, যা শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এদিকে গত ৬ এপ্রিল জামালপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।’
তবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্যারোল মুক্তি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার খবর নিছক প্রোপাগান্ডা।
এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল গত ৭ এপ্রিল এক অনশন কর্মসূচিতে বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানাইনি, তিনি জামিনে মুক্তি পান।’
প্রধানমন্ত্রীর ব্রুনাই সফরে ৭ সমঝোতা স্মারক সই হবে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ব্রুনাই সফরকালে দু’দেশের মধ্যে সাতটি সসমঝোতা স্মারক সই হবে। এসব সমঝোতার মধ্যে কৃষি, সংস্কৃতি ও শিল্প, যুব ও ক্রীড়া, মৎস্য, পশু সম্পদ, জ্বালানি খাত রয়েছে।
ড. মোমেন বলেন, ব্রনাই সফরকালে দু’দেশের মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, খাদ্য, প্লেন যোগাযোগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পর্যটন ও কারিগরি সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি। ব্রুনাই সফর শেষে আগামী ২৩ এপ্রিল ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।