আকাশবার্তা ডেস্ক :
চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
এর আগে বুধবার (২৪ এপ্রিল) রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।
একইসঙ্গে এ আদেশ পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি প্রতি জেলার সিভিল সার্জন ও ডিসিদের এসব আদেশ পাঠাবেন। এবং এ নির্দেশনা থাকবে আদেশ গ্রহণ করার সাথে এসব বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। রিটের বিবাদীরা হলেন, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের।
আদেশের পরে সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, আদালত আমাদের রিট পিটিশনের শুনানি শেষে একটি রুল ইস্যু করেছেন। রুলে সারাদেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়েটিক বিক্রি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন।
ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু অনেকেই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খান চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই।
তিনি আরও বলেন, রোগের চাহিদা ছাড়াও ফার্মেসিগুলোতে রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। শরীরে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করার কারণে একপর্যায়ে এসব রোগীর শরীরে আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।
সম্প্রতি অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে ৪০০ লোক মারা গেছেন। জাতীয় একটি দৈনিকে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ কারণে রিট করা হয়।
‘২০১৬ সালে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সুপারবাগ দিন দিন এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠছে, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিবছর এক কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে এটি! গত বছর ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও ডায়রিয়ায় মারা যাওয়া রোগীর সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি এই সংখ্যা!’