আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, আইএসবধূ শামীমা বেগম বাংলাদেশের সমস্যা নয়। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম আইটিভি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার পর এখন তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হলে সন্ত্রাসবাদের কারণে তার ফাঁসি হতে পারে।
আইটিভি নিউজের নিরাপত্তা সম্পাদক রোহিত কাচরোকে আব্দুল মোমেন বলেন, শামীমাকে নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। সে বাংলাদেশের নাগরিক নয়। তিনি বলেন, সে (শামীমা) কখনও বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেনি। তার জন্ম ইংল্যান্ডে হয়েছে এবং তার মা ব্রিটিশ। যদি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তার সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য কিছু নয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আইন অনুযায়ী তাকে জেলে ঢোকানো হবে এবং তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। এদিকে আব্দুল মোমেনের এই বক্তব্যের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি ব্রিটিশ সরকার। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সব সন্ত্রাসীদের নির্মূলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন একটি মডেল।’ সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধে ‘অন্য সব দেশকে বাংলাদেশ সহায়তা’ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
২০১৫ সালে পূর্ব লন্ডনের যে তিনজন স্কুলছাত্রী পালিয়ে গিয়ে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিয়েছিল শামীমা তাদেরই একজন। গত মার্চ মাসে সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে তার সন্ধান পাওয়া যায়।
বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ইতোমধ্যে কেড়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ। কী কারণে শামীমা ব্রিটিশ পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে তা এখনও প্রকাশ করেনি যুক্তরাজ্যের সরকার। তবে ধারণা করা হয়, যেহেতু শামীমার বাবা একজন বাংলাদেশি এবং এ কারণে যেহেতু সে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারবেন তাই শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।