আকাশবার্তা ডেস্ক :
রমজানে রাজধানীতে গরুর মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। সোমবার (০৬ মে) নগর ভবনে মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, দেশি গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫২৫ টাকা, বিদেশি গরুর (বোল্ডার) মাংস ৫০০ টাকায় বিক্রির নির্দেশনা দেন মাংস ব্যবসায়ীদের। এছাড়া মহিষের মাংস প্রতিকেজি ৪৮০ টাকা, খাসি ৭৫০ টাকা এবং ভেড়া বা ছাগির মাংস ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
মেয়র বলেন, পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ডিএসসিসি জনস্বার্থে বেশকিছু কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়াবেন না। গতবছর মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। সেখানে শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে সেটি বলবো না। কিছু কিছু জায়গায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন করেছেন ব্যবসায়ীরা। এবার সেই ব্যত্যয় যেন না ঘটে এজন্য কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, ডিএসসিসি সবসময় ব্যবসা বান্ধব নীতি গ্রহণ করে। সৎ ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেয়। আর যেসব ব্যবসা নাগরিকদের দীর্ঘনাভিশ্বাস আসবে তা করতে দেয়া হবে না। তবে গত রমজানের চেয়ে এবার মাংসের দাম একটু বেশি বলে মেয়রেও মনে করেন।
মাংস ব্যবসায়ীর সমিতির মহাসচিব রবিউল ইসলাম বলেন, মাংস ব্যবসায়ীদের লুটেরাদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একটি গরুর হাটের প্রস্তব গৃহীত হয়েছিল, যা কিনা আজও বাস্তবায়ন হয় নাই। সরকারের দেয়া সুবিধা ভোগ করছে গাবতলী গরু হাটের ইজাদাররা। মাংস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকার প্রতিটি গরুর হাসিল ১০০ টাকা নির্ধারণ করলেও ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। হাটের ইজারাদারের চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়, যা মাংসের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। বারবার অভিযোগ করার পরও উত্তর সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই সমস্যার যদি সমাধান করা যায়, তাহলে মাংসের দাম অনেক কম দামে বিক্রি সম্ভব।
মাংস ব্যবসায়ীর এসব কথা শুনে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, রমজানে মাংসর বাজার নিয়ে অতিরিক্ত মূল্য নেয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইজারাদারদের দৌরাত্ব বন্ধ করতে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি যথাযথ নজর দেয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া গাবতলী গরুর হাটের অনিয়ম ও চাঁদাবাজি বন্ধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে মাংব্য ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ডিএসসিসির নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি.জেনারেল (ডা.) শরীফ আহমেদ, অতিরিক্ত প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান, ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ডিএসসিসি গত বছর রমজানে গরুর মাংস প্রতিকেজি ৪৫০ টাকা, বিদেশি গরুর মাংস ৪২০ টাকা, মহিষ ৪২০ টাকা, খাসির মাংস ৭২০ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু এবার গতবছরের তুলনায় গরুর মাংসে প্রতিকেজিতে ৭৫ টাকা, খাসির মাংসে ৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।