বিনোদন ডেস্ক :
অভিনেত্রী থেকে নেত্রী। ছিলেন ব্যাচেলর হলেন বিবাহিত। বসিরহাট থেকে দিল্লী। এসব কারণে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বেশ আলোচনায় আছেন টলিউড অভিনেত্রী নুসরাত জাহান।
সাংসদ হওয়ার পর বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তিনি।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শাড়ি, মেহেদি রাঙানো হাত এবং মাথায় সিঁদুর পরে সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছেন নুসরাত।
নুসরাতের শপথ নেয়ার ভিডিও এবং ছবি নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা চলছে। মুসলমান হয়ে সিঁদুর পরায় বেশ ক্ষিপ্ত হয়েছেন অনেক নুসরাত ভক্ত।
নুসরাত কোন ধর্মের অনুসারী? এমন প্রশ্নের উত্তরে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে নুসরাত বলেন, ‘আমার মাথায় সিঁদুর দেখে অনেকে প্রশ্ন করেছেন, আমি কি হিন্দু হয়ে গেলাম? আমার তো মনে হয় কোন ধর্ম অনুসরণ করব, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার সকলের রয়েছে।
আমি জন্মসূত্রে ইসলাম। সেটাই অনুসরণ করছি। কিন্তু সব ধর্ম এবং তার নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে আমার। আমি এবং আমার স্বামী আমাদের ধর্ম পালন করছি। আমার তো মনে হয় এটাই স্বাভাবিক।’
শপথ নেয়ার দিন সংসদে প্রবেশ করার আগে সিঁড়িতে প্রণাম করেছিলেন নুসরাত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্কুুল বা পরিবার থেকে সেই শিক্ষাই পেয়েছি। কাজ আমার কাছে পবিত্র জিনিস। সংসদে নতুন পথ চলা শুরুর আগে তাই শ্রদ্ধা জানিয়েছি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই রাজনীতিতে আসা। তার লড়াকু মনোভাবকে কুর্নিশ জানিয়েছিলাম।’
অভিনয় ক্যারিয়ার বেশ কয়েকবার ট্রলের মুখে পড়েছিলেন এ অভিনেত্রী।
নেত্রী ক্যারিয়ারেও প্রথম ট্রলের মুখে পড়েছেন তিনি। তবে এসব বিষয়ে খুব একটা কর্ণপাত করেন না নুসরাত। তার ভাষায়, ‘আমি যে কতবার ট্রোলড হয়েছি, তার কোনো হিসেব নেই। আমার তো মনে হয় ট্রোলিং ভালোবাসারই ভিন্ন প্রকাশ।’
অভিযোগ আছে, শোবিজ থেকে যারা রাজনীতিতে এসেছেন তারা সংসদে উপস্থিত কম থাকেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন না। এ থেকে নুসরাত কতটা আলাদা হবে?
উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার লোকসভা এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি আমি। ওদের সাহায্য দরকার। তাই সংসদের কাজে আমি অংশ নেবই। ওদের যখনই সাহায্য প্রয়োজন, আমি আছি।’