আকাশবার্তা ডেস্ক :
কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১২ মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার টেকনাফ সদরের মহেষখালীয়াপাড়া নৌকাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ছিলেন। নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হামিদ ওরফে হাকিম ডাকাত (৪৫)। তাঁর বাড়ি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেষখালীয়াপাড়ায়। বাবার নাম আবুল হাসিম ওরফে হাশেম।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ বলছে, নিহত হামিদ টেকনাফ সদরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ছিলেন।
তিনি ইয়াবা, মানবপাচার, অস্ত্র, নারী নির্যাতন দমন আইনে করা মামলাসহ ১২টি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। গতকাল বিকেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।
বন্দুকযুদ্ধের স্থান থেকে ৪টি দেশীয় অস্ত্র (এলজি), শটগানের ১৭টি তাজা গুলি, ২১টি খালি খোসা ও ৬ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্দুকযুদ্ধের এই ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন চন্দ্র দাস, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাজী সাঈফ উদ্দিন ও কনস্টেবল রয়েল বড়ুয়া আহত হয়েছেন।
ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মহেষখালীয়াপাড়া বাজার থেকে মোহাম্মদ হামিদ ওরফে হাকিম ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাঁকে থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল দিবাগত রাতে পুলিশের একটি দল তাঁকে সঙ্গে নিয়ে মহেষখালীয়াপাড়া নৌকাঘাট এলাকায় যায়। সেখানে পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে হামিদের সহযোগীরা।
গুলিতে পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। হামিদ পালাতে গিয়ে দুই পক্ষের মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যান।
হামিদ ও পুলিশের আহত সদস্যদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। হামিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নেওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পথে হামিদের মৃত্যু হয়।