আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাঁশের তৈরী সাঁকোতে ৪৮ বছর পার করছেন ১৫ গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য নারী-পুরুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন খালের উপর দিয়ে তৈরী সাঁকোতে। ওয়াপদা খালের উপর ওইস্থানে ব্রিজ না হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তারা জানান, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও এ সাঁকোটির কোনো উন্নয়ন হয়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের পশ্চিম দিঘলী গ্রামে ওয়াপদা খালের উপর নির্মিত বাঁশের তৈরী সাঁকো দিয়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতে এমনই চিত্র ফুটে ওঠেছে । তিন ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করছেন প্রতিদিন এ সাঁকো দিয়ে। সাঁকো পারাপারে এ অঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ সাঁকোটি যেন এখন মানুষের মরণফাঁদ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই সাঁকো দিয়ে সদর উপজেলার চরশাহী, দিঘলী, কুশাখালী ও মান্দারী ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। বর্তমানে সাঁকোটির অনেকগুলো বাঁশের নিচের অংশ নেই। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়া ও কচুরী পানার কারণে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয় লোকজন সাঁকোটিকে কোন রকমে ঠিক করে নিচ্ছেন পারাপারের জন্য।
সাদিয়া, সোলায়মানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদিন বাবা-মা এসে এ সাঁকোটি পার করে তাদেরকে স্কুলে পাঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রব ডাক্তার জানান, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও ওয়াপদা খালের উপরে ব্রিজ না হওয়ায় এলাকার মানুষ খুব কষ্টে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ও স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, বাঁশের সাঁকোটির অবস্থা খুবই খারাপ। এটি যে কোন সময় ভেঙে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বিষয়টি জেলার শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিকে অবগত করেছি, কিন্তু এখনও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকার প্রবীণ লোক আবদুল্লাহ মিয়া জানান, বিগত দিনে এই সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে এবং সাঁকো থেকে পড়ে একজন স্কুলছাত্রী পানিতে ডুবে মারা গেছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে এ স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
দিঘলী সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুজ্জাহের ও দিঘলী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন জানান, খালের ওপাড়ে দিঘলী ও পর্ব মান্দারী এলাকার ছেলে মেয়েদেরকে অনেক কষ্ট করে স্কুলে আসতে হয়। তাই খালের উপরে জরুরি ভিত্তিতে একটি ব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।
এলজিইডির সদর উপজেলার সাবেক প্রকৌশলী আমিনুর রসুল জানান, ব্রিজটি খুবই জরুরি। ওয়াপদা খালের দুই পাশের পাকা রাস্তাটি এলজিইডির। ব্রিজটি নির্মাণের জন্য এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান শেখ মুজিবুর রহমান জানান, সাঁকোটি সত্যি বিপজ্জনক। এটি ভেঙে পড়ে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ব্রিজ নির্মাণের জন্য জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আশা করি মানুষের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ্ উদ্দিন টিপু বলেন, ওয়াপদা খালের উপরে ব্রিজটি যেন দ্রুত হয় সে ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নেব।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম রশীদ আহম্মেদ জানান, ওয়াপদা খালের উপরে ব্রিজ নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ হলে এ এলাকার মানুষের দুঃখ দূর হবে।