আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়ন যুবলীগের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর ও দুই লাখ টাকা চাঁদাদাবির অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এতে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলজার মোহাম্মদসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ দিকে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার দুপুরে চরশাহী ইউপির বসুরহাট বাজারে স্থানীয় আওয়ামীলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান কামাল, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবিন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোরশেদ আলম, চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আনসারী প্রমুখ।
এর আগে রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্রগঞ্জ আমলী আদালতে চরশাহী ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম রিয়াজ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
বাদির আইনজীবী লুৎফুর রহিম গাজী বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোলায়মান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছা সেবকলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক দিদার হোসেন বাবলু, চরশাহী গ্রামের আনিছ মিয়ার ছেলে মো. রবিন, রুহুল আমিনের ছেলে আবদুল মিয়া ও অজ্ঞাত ১২ জন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান গোলজার মোহাম্মদের নির্দেশে তার অনুসারীরা যুবলীগ নেতা রিয়াজের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় গত ২২ জুলাই মামলার আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরশাহী ইউনিয়ন যুবলীগের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ সময় ইউনিয়নের রফিক মার্কেটের ওই কার্যালয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, চেয়ার, টেবিলসহ প্রায় দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
তবে চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার মোহাম্মদ বলেন, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় আবুল কাশেমকে। দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেন জেলা যুবলীগের সভাপতি সালাহ উদ্দিন টিপু। আমি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করি। বিদ্রোহীর পক্ষে না থাকায় যুবলীগ নেতা-কর্মীরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হন। এখন তাঁরা কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।