বুধবার ১১ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুরহাট

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে জমতে শুরু করেছে পশুরহাট। তবে বেচাকেনা এখনো সেভাবে জমেনি। খামারী ও কৃষকরা বিভিন্ন পশুরহাটে যাচ্ছেন কোরবানির গরু-ছাগল নিয়ে। ভারত, মিয়ানমার ও নেপাল থেকে আনা গরু নিয়েও হাটে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এবার পশুরহাটে ভারতীয় গরুর আমদানি এখনো কম। তবে ভারতীয় মহিষের আমদানি মোটামুটি। এ দিকে পশুরহাটগুলো জমিয়ে তুলতে স্থায়ী ও অস্থায়ী ইজারাদাররা তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের কোরবানির পশুরহাটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সদরের পৌর গরু বাজার, মোল্লার হাট ও চন্দ্রগঞ্জ বাজার। এবার সদরে ৪টি স্থায়ী ও ১৭টি অস্থায়ী গরু-ছাগলের হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

ঈদের বাকী আর মাত্র ৪দিন। কিন্তু এখনো বিক্রি কম বলে জানিয়েছেন ব্যাপারীরা। গরু, ছাগল নিয়ে বিক্রির অপেক্ষায় আছেন তারা। জেলার চন্দ্রগঞ্জে বৃহস্পতিবার ও রবিবার পশুরহাট মিলে। গত রোববার চন্দ্রগঞ্জে মাত্র ৫টি গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ব্যাপারীরা বলছেন, শেষ মুহুর্তে গরু-ছাগল বিক্রির ধুম পড়ে যাবে। তারা বলছেন, এবার কোরবানিতে প্রাধান্য পাবে স্থানীয় খামারে পালিত দেশি জাতের গরু-ছাগল। সেদিকে খেয়াল রেখেই হাটে পশু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারও কোরবানিতে প্রাধান্য পাবে স্থানীয় খামারে পালিত দেশি জাতের গরু-ছাগল। জানা গেছে, প্রতিবছর কোরবানি আসলে মৌসুমী গরু-ছাগল ব্যবসায়ীর সংখ্যাই একটু বেশি। অনেকে আবার শখের বসে কোরবানি আসলে গরু ব্যবসা করেন। লাভ যা হয় তাতেই তারা সন্তুষ্ট।

যশোর থেকে আসা গরু ব্যাপারী উলুন মিয়া বলেন, উত্তরবঙ্গে বন্যার কারণে এবার গো-খাদ্যের অভাব। গরু নিয়ে আইসা এখন বিপদে পড়ছি। তাদেরকে খাবার দিতে পারি না। তাছাড়া শুধু খৈল, ভূসি খাইয়ে গরুর পেট ভরেনা। ধানের খড়ও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এখনো বিকি-ভাট্টা কম হলেও শেষ পর্যন্ত গরু থাকবে না। প্রতিবছর তিনি যশোর থেকে লক্ষ্মীপুরে গরু নিয়ে আসেন বলে জানান।

স্থানীয় মৌসুমী গরু ব্যবসায়ী বাবু, হামিদ মেম্বার তারা জানান- এবার গরু কোরবানি দেওয়া লোকের সংখ্যা একটু কম। শেষ পর্যন্ত গরুর দাম কোন দিকে মোড় নেয় বলা যায় না। তবে ভারতীয় গরুর আমদানি কম থাকায় দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তারা।

এ দিকে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষথেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোষাকধারী এবং সাদা পোষাকে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারীসহ র‌্যাবের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পশুর হাটগুলোতে টহল পুলিশসহ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোষাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, গরু ব্যবসায়ীরা এবং ক্রেতা সাধারণ যাতে তাদের সাথে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে নির্ভিঘেœ গরু বেচাকেনা করে বাড়িতে ফিরতে পারেন জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সে ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা প্রতিরোধ এবং চাঁদাবাজি বন্ধে বিশেষ নজরদারি থাকবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১