আকাশবার্তা ডেস্ক :
৩৭ বছরের টগবগে যুবক শিপন। স্ত্রী, তিন কন্যা নিয়ে ভালই চলছিল তার সংসার। প্রায় ৩ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে মেরুদন্ডের হাঁড় ভেঙ্গে যায়। চিকিৎসা খরচ যোগাতে গিয়ে বসতভিটাও বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। এখন প্রায় নিঃস্ব। দুইবছর অন্যের জায়গায় ঝুপড়ি ঘর করে জীবন কাটছিল। স্ত্রী ও মেয়েদের ভরণ-পোষন, লেখাপড়ার খরচ যোগাতে মানবেতর জীবনযাপন করছিল সে। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি না করে সড়কের পাশে একটি টংঘরে দোকান দিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু করে সংগ্রামী জীবন। তার স্বপ্ন মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা। কিন্তু সে স্বপ্ন কী পূরণ হবে? লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দালাল বাজার ইউপির মহাদেবপুর গ্রামে শিপনের বাড়ি। কথা হলে তার স্বপ্নগুলো তুলে ধরেন এভাবেই।
শিপন জানায়, তিনবছর আগে বিদেশ থেকে ছুটিতে বাড়িতে এসে সুপারী পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে যান। এতে তার মেরুদন্ড ভেঙ্গে যায় এবং দুই পা অবশ (প্যারালাইসিস) হয়ে যায়। বসতঘর ও জমি বিক্রি করে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ধানমন্ডি গ্রীণলাইফ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও ভালো হননি। পায়ের একটি অংশে এখন পঁচন ধরেছে। ধার,কর্জ করে নিজের চিকিৎসা করিয়েছেন। প্রতিমাসে তাঁর দশহাজার টাকার ওষুধ খেতে হয়। বর্তমানে হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে হয় তাকে।
রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অন্যের জায়গায় একটি ছোট টং দোকানে চা বিক্রি করেন। দৈনিক ১০০-১৫০ টাকার আয় দিয়ে সংসার ও মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে প্রতিদিন।
শিপন বলেন, পঙ্গু অবস্থায় সড়কের পাশে দোকানটির আয় দিয়ে তার চিকিৎসা খরচ, সংসার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয়। তবুও তার স্বপ্ন মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। সরকার ও দেশের দানশীল এবং সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগিতায় তার স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা।
শিপনকে সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগ করুন, ০১৯৮৪-২৩১২৬৩ (বিকাশ), সঞ্চয়ী হিসাব নং- (স্ত্রী ফাতেমা বেগম) ০২৯৫২৫৩৯৬৬০১৯, ওয়ান ব্যাংক, রায়পুর শাখা-লক্ষ্মীপুর।