আকাশবার্তা ডেস্ক :
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমর লন্ডনের কোম্পানি নিয়ে একটি অনলাইনে নিউজ হওয়ার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। ফেসবুকে দেয়া একটি স্ট্যাটাসে লন্ডনে তার কোনো কোম্পানি নেই বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
‘লন্ডনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজমুলের চার কোম্পানি!’- এ শিরোনামের নিউজকে তিনি তামাশা বলে উল্লেখ করেছেন। এমনকি লন্ডনে তার কোনো কোম্পানি নেই বলেও স্ট্যাটাসে যুক্তি দিয়েছেন।
সাবেক ছাত্রনেতা সিদ্দিকী নাজমুল আলম ওই প্রতিবেদনকে ‘তামাশা’ দাবি করে প্রতিবেদককে ‘লায়ার (মিথ্যুক)’ আখ্যা দেন তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। … এই সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমানে লন্ডনে বেশ কয়েকটি কোম্পানির মালিক।’
আরও বলা হয়, ‘অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকারের কাছে নাজমুলের কোটি কোটি টাকার নিবন্ধিত বিনিয়োগ রয়েছে। তার নামে ব্রিটেনের কোম্পানি হাউজে আবাসন, গাড়ির অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেইম ম্যানেজমেন্ট, পণ্যের পাইকারি বিক্রেতা, বিজ্ঞাপন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের ছয়টি কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানির পরিচালক পদে তার নাম নেই। বাকি চারটি কোম্পানির মধ্যে একটির একক পরিচালক এবং আরও তিনটি যৌথ পরিচালক হিসেবে তিনি রয়েছেন।’
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বিনিয়োগকারী ভিসায় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ব্রিটিশ সরকারের আইন অনুযায়ী, এই ভিসা পেতে ন্যূনতম দুই লাখ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় দুই কোটির বেশি) বিনিয়োগ করতে হয়। ব্রিটেনে নাজমুলের বিলাসবহুল জীবন ও আর্থিক উৎসের নানা কাহিনী নিয়ে খোদ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেই এখন কানাঘুষা চলছে।
ফেসবুকে দেওয়া তার স্ট্যাটাসে তিনি যুক্তি হিসেবে বলেন, ‘লন্ডনে একটা কোম্পানি খুলতে খরচ হয় ১২ পাউন্ড। ৪ টি কোম্পানি খুলতে খরচ হয়েছে ৪৮ পাউন্ড বাংলা টাকায় প্রায় ৪৯০০ টাকা যা সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স খুলার চাইতেও কম। আর অপরিশোধিত মূলধন হিসেবে চাইলে আপনি যা ইচ্ছা দেখাতে পারবেন তারপরও আমার কোন কোম্পানির অপরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৫/৭ হাজার পাউন্ডের বেশী নয় অথচ কি কাল্পনিক নিউজ?’
‘আর কোম্পানি যুক্তরাজ্যে চাইলে যে কেউ খুলতে পারে জাস্ট ২০ মিনিট সময় লাগে অনলাইনে। আমার কোম্পানিগুলোর নাম তো সবাই পেলেন এখন Companyhouse.gov.uk এখানে গিয়ে দেখলেই বুঝবেন সংবাদের সত্যতা কতটুকু।’

তিনি লেখেন, ‘আরেকটা কথা যুক্তরাজ্যে চাইলেই কেউ কোটি কোটি পাউন্ড ইনভেস্ট করতে পারে না। আর যে কোম্পানির কথা বলছেন ১০ কোটি টাকার সেটা এক্ষন ঐ সাংবাদিকের কাছে বিক্রি করতে চাই বিনামূল্যে, যদি কোন মায়ের বুকের দুধ খেয়ে থাকেন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন আমি বললাম তো ঐ কোম্পানিতে এক টাকাও বিনয়োগ করা হয়নি শুধু নাম দিয়ে কোম্পানি খুলে রেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলা করলে এদেশে কি পরিণতি হয় তা তো জানেন পন্ডিত সাহেব? দিলাম না আপনার পেটে লাথ্থি কারণ হয়তোবা এস্যাইলাম মেরে থাকতেছেন এই দেশে হাজার মাইল দূরে রেখে আসা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। আমি চাইলেই পন্ডিত মহাশয়কে আইনের মাধ্যমে শায়েস্তা করতে পারি আবারও মাফ করে দিলাম কারণ অভ্যাস হয়ে গেছে।’
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সিদ্দিকী নাজমুল আলম ২০১১-১৫ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির মেয়াদ শেষে হঠাৎ করেই ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিদেশে যান তিনি।