আকাশবার্তা ডেস্ক :
বালিশের দাম বেড়েছে, তার চেয়েও বেড়েছে কভারের দাম। শুনে অবাক লাগার কিছু নেই। বালিশ দুর্নীতির খবর, এ আর নতুন কি! রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতির হালচাল প্রকাশের পর জানা গেছে, ফ্ল্যাটে বালিশ তুলতে দাম পড়েছিল ৬ হাজার টাকা। সেটি নিয়ে তো কম খবর হয়নি।
রূপপুরের চেয়ে চারগুণ বেশি দামে এবার বালিশ কেনার খবর এলো চট্টগ্রামে নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের।
মেডিকেলের একেকটি বালিশের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার টাকা এবং সে বালিশ মোড়ানোর জন্য কভার কেনা হচ্ছে ২৮ হাজার টাকা দামের।
দ্বিতীয় এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় বালিশটা হয়তো চোখে পড়ার মতো তবে এরকম আরো হাজারো নজির রয়েছে। যখন ২০ টাকার হ্যান্ড গ্লাভস ৩৫ হাজার টাকা, ১৫ টাকার টেস্টিউব ৫৬ হাজার টাকা তখন আর কোন কিছু দাম বলার অপেক্ষাই রাখে না।
পরিকল্পনা কমিশনের এ প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির সভায় এই অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাবনার অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য বিভাগেও এ বিষয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এছাড়াও পরিকল্পনা কমিশন জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে। তবে প্রকল্পের প্রস্তাবনায় এমন অস্বাভাবিক দাম নির্ধারণের মধ্য দিয়ে এক শ্রেণির অসাধুরা উন্নয়নের নামে লুটপাট করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ডিপিপি’র তথ্য মতে, দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এজন্য ২২ তলাবিশিষ্ট এক হাজার বেডের দুটি হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে।
এছাড়া ২০ তলাবিশিষ্ট দুই বেজমেন্টের প্রশাসনিক ভবন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম বন্দর বাইপাস সড়কের পাশে ২৮ দশমিক ৪২ একর জায়গা জুড়ে হবে বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা।
ডিপিপির কার্যপত্র থেকে জানা যায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ১২টি আইটেমের যে দাম ধরা হয়েছে তা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। অনেকটা পর্বতসম।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য মতে, এই ১২ আইটেমের মধ্যে প্রস্তাবনায় বালিশ ক্রয়ে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতিটির ২৭ হাজার ৭২০ টাকা, যার (সরবরাহকারীর লাভ, ভ্যাট, ট্যাক্সসহ) বাজারমূল্য ৭৫০-২০০০ টাকা আর বালিশের কাভারের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা, যার বাজার মূল্য ৫০০-১৫০০ টাকা। এমন আরো অনেক অসঙ্গতি রয়েছে পণ্যগুলোর ক্রয় প্রস্তাবে।
এর মধ্যে অপারেশনের সময় ডাক্তারদের হাতে পরার স্টেরাইল হ্যান্ড গ্লাভসের দাম ধরা হয়েছে প্রতিটির ৩৫ হাজার টাকা, যার বাজার মূল্য মাত্র ২০-৫০ টাকা। আর ১৫-৫০ টাকার টেস্ট টিউবের দাম ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা।
একই সঙ্গে বিল্ডিং নির্মাণে মাল্টিপ্লাগের দাম ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৩০০ টাকা, যার বাজার মূল্য মাত্র ২৫০-৫০০ টাকা। অপারেশন থিয়েটারের রাবার ক্লথের বাজার মূল্য ৫০০-৭০০ টাকা হলেও প্রকল্প প্রস্তাবে দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা, রেক্সিনের বাজার মূল্য ৩-৫শ টাকা হলেও প্রতিটি ৮৪ হাজার টাকায় কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সুতি তোয়ালে বাজারে ১০০-১০০০ টাকায় পাওয়া গেলেও প্রস্তাবনায় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৮০ টাকা।
ডাক্তারদের সাদা গাউনের বাজার মূল্য ১০০-২০০০ টাকা হলেও প্রকল্পে প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা। সার্জিক্যাল ক্যাপ ও মাস্কের দাম ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা, যার বাজার মূল্য মাত্র ১০০-২০০ টাকা। বাজারে সু-কাভার প্রতিটির দাম ২০-৫০ টাকা, এখানে প্রস্তাব করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।
কমিশন থেকে আরো বলা হয় প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করলে আরো অনেক অসঙ্গতি পাওয়া যাবে। প্রকল্পের শুরুতেই এই ধরণের লুটতরাজ গ্রহণযোগ্য নয়।
পিইসির কার্যপত্র থেকে প্রকল্পের ডিপিপি পর্যালোচনায় দেখা যায় একই উপকরণ বারবার প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে যে আসবাব লাগবে না সেখানে তাও প্রস্তাব করা হয়েছে।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।