ক্যাম্পাস প্রতিবেদক :
র্যাগিং এর সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যেন মহামারি আকার ধারণ করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ৯০% শিক্ষার্থী সিনিয়র আপু বা ভাইয়াদের দ্বারা কোনো না কোনো ভাবে হয়রানির শিকার হয়। সম্প্রতি এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। তাদের বর্ননা তুলে এনেছেন সাংবাদিক আসলাম হোসেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবির) ১১ তম ব্যাচের ছদ্মনাম (তুহিন) বলেন, ভর্তি হওয়ার প্রথম যেদিন সাভার থেকে ক্যাম্পাসের লালবাসে উঠি সেদিন আমার জীবনে ঘটে অন্য রকম ঘটনা, আমি নিজেও ভেবে উঠতে পারিনি এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে, তিনি বলেন (তুহিন) যখন আমি সাভার থেকে ক্যাম্পাসের গাড়িতে উঠি তখন এক বড় ভাই ডাকে, বলে কত ব্যাচ? আমি (তুহিন) বলে এগারো ব্যাচ তখন থেকেই শুরু জেরা, বলে সালাম না দিয়ে উপরে উঠে যাস কেনো।
এরপর একের পর এক প্রশ্ন এরই ফাকে একজন বলে, বাসের সামনের চেয়ারে যে সিনিয়র আপু বসে আসে তাকে প্রপোজ করে আই, আর উচ্চ কন্ঠে বলবি ‘আই লাভ ইউ’ কান্নাকন্ঠে ঐ শিক্ষার্থী বলেন না যাওয়াতে অকর্থ ভাষায় গালিগালাজ করে।
(তুহিন) আরো বলেন, এরপর বলে মমতাজের একটা গান বল, (তুহিন) বলে পারবো না, তখন সিনিয়র ভাইয়েরা দুই লাইন গেয়ে বলে এবার বল, তখন না পেরে বলেতে বাধ্য হয়েছিলাম। এত কিছুর পর যখন আমি কান্না করে দিই তখন পাশ থেকে বলে ছেড়ে দে তখন রেহায় পায়, ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাইয়েরা এমন হয় জানা ছিল না।
অন্য এক মেয়ে শিক্ষার্থী সাদিয়া জাহান বলেন, একদিন বাসে আসার সময় জুনিয়র হয়ে কেনো সিনিয়রদের স্থানে বসে আসি এই জন্য র্যাগ দেয়। এক সিনিয়র আপু পরে তার বয়ফেন্ডকে জানালে থাপ্পরমারে ঐ শিক্ষার্থীকে এটা নিয়ে প্রক্টর অফিসে জানালে তেমন কোনো প্রতিকার মেলেনি। র্যাগিং এর শিকার ঐ মেয়ে জানান, আমি নিজ থেকে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিই পরে র্যাগ দেয়া ঐ ছেলে মাফ চাওয়ায় আর সামনে এগোইনি।
মামুন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসের বাসে সিট থাকা সত্ত্বেও বড় ভাইয়েরা বলে জুনিয়র কেউ সিটে বসবি না, গেটে দাড়িয়ে যাবি, সিনিয়রদের সিকারেট কিনে আনা, মেয়েদের স্কেক্সচুশাল বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা কিংবা রাজনীতি করলে সব কিছুই করা যায় এমন মানুষিকতা বড় ভাইদের কাছ থেকেই প্রথমে শেখেন বলে জানান।
তাসনিন নাজনীন নামে এক শিক্ষার্থী জানান, বর্তমানে র্যাগিং এর মাত্রা মেয়েদের মাঝেও বেড়েছে তিনি বলেন, আমি যেদিন ডিপার্টমেন্টে প্রথম আসি সেদিন সিনিয়র এক আপু বলছে ব্লুফ্লীম দেখিস ? লজ্জায় যখন কিছু না বলি তখন বলে এত লজ্জা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া যাবে না, লজ্জা দূর করতে এই সব উদ্ভট প্রশ্ন করেন।
শিক্ষার্থী আরও জানান, এরপর থেকে ডিপার্টমেন্টের এই আপু ডিবেটিং ক্লাব, ক্যারয়িার ক্লাবসহ বিভিন সাংস্কৃতিক ক্লাবে আমাকে নিয়ে গিয়ে পরিচয় করে দেয়।
বাসে র্যাগিং এর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রক্টর মোস্তফা কামাল জানান, বাসে সিট রাখা বা র্যাগিং এর এমন কোন অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিব। অভিযোগ না দিলে ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, আমরা গত বছর বাসে লিফটে টাঙিয়ে দিয়েছিলাম আবারও দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সিনিয়রদের দ্বারা জুনিয়র হয়রানি কোনো ভাবে মেনে নেয়া হবে না।
সূত্র : আমার সংবাদ।