অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :
২৩ দিন পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশে ভারত থেকে আসা পেঁয়াজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত সরকার। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর দেশ বাংলাদেশ এ অবস্থায় অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করলেও চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল। কয়েক দফায় ভারতের কাছে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালে শেষমেষ ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিতে সম্মতি দিয়েছে ভারত।
ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে ভারতের প্রতি এ আহ্বান জানান। শিগগিরই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। মন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, মহারাষ্ট্র রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হলেই পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে তার সরকার।
প্রসঙ্গত, ভারতে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় মহারাষ্ট্রে। গত ২১ অক্টোবর মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুথফেরত জরিপ বলছে রাজ্য দুটিতে ফের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আগামীকাল ২৪ অক্টোবর ভোটের ফল প্রকাশ হবে।
আসাম রাজ্যের রাজধানী গোহাটিতে ভারত-বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আরও বলেন, নয়াদিল্লি হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জন্য।
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ, ভারত সরকার যখন পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল তখন তারা এমন পদক্ষেপ সম্পর্কে না আমাদের জানালেও অন্তত ইঙ্গিত তো দিতে পারতো।
দুই দেশের ওই বাণিজ্য সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারত থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ তার মোট পেঁয়াজের চাহিদার ৮০ শতাংশ পূরণ করে। তাই ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বাংলাদেশকে চড়া মূল্যে তুরস্ক ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে।
চলতি বছরে বন্যায় ভারতের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় এবার দেশটির মৌসুমি পেঁয়াজ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাদের বাজারেও পেঁয়াজের মূল্য বেশ চড়া। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মোদি সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সময় ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, উৎপাদন ও মজুতের ঘাটতির কারণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানিতে এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
ভারত হলো গোটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের বেশকিছু শহরে সবজির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। রয়টার্স বলছে, উৎপাদন কম এবং মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনের কারণে কৌশলগত কারণে ভোগ্যপণ্য বিষয়ে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
গত জুনে ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করলে সরকার তখন রফতানি ১০ শতাংশ হ্রাস করার ঘোষণা দেয়। মূলত আগের বছরের মজুত থেকে এ বছরে পেঁয়াজ সরবরাহের পরিমাণ হ্রাস ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বপনে বিলম্ব হওয়ায় এমন পরিস্থিতি বলে জানায় দেশটি।
ভারতের বেশকিছু রাজ্যে চলতি বছরে দ্বিতীয় দফায় টানা ভারী বর্ষণে অনেক আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ায় পেঁয়াজের কাঙিক্ষত উৎপাদন হয়নি। ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। অক্টোবরের শেষে নতুন পেঁয়াজ ঘরে উঠলে এ সঙ্কট থাকবে না।