রবিবার ১লা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

যোগ্য প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত!

আকাশবার্তা ডেস্ক :

প্রায় সাড়ে ৯ বছর পর ২ হাজার ৭৩০টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছে সরকার। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা একসঙ্গে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে তৈরি করেছেন নতুন ইতিহাস। দেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির হাত ধরে এমপিওর বন্ধ দরজা খুলে যাওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের ফল্গুধারা বইতে শুরু করেছে।

তবে এরই মধ্যে আবার নানা অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে। এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকা ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ভুল ও অসঙ্গতির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। তবে এ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকেই এমপিওভুক্ত করা হয়েছে বলে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।

মন্ত্রী দৈনিক আমার সংবাদকে বলেছেন, ‘২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এর মধ্যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও অযোগ্য নয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে নীতিমালা পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। এমনকি যোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানও তালিকা থেকে বাদ যায়নি।

গত রোববার বিকালে রাজধানীর নীলক্ষেতে বাংলাদেশ শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ভবনে এমপিওভুক্তি নিয়ে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বসেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে অভিযোগ ওঠা ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়েই সোজাসাপ্টা কথা বলেন।

রাতে মন্ত্রী কথা বলেন দৈনিক আমার সংবাদের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। এমপিওভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এমপিও নীতিমালায় উল্লিখিত মানদণ্ড অনুসরণ করে আবেদন করা ৯ হাজার ৬১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুই হাজার ৭৩০টি যোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়ারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাছাই করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে সাবমিট করে। এর মধ্যে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাসের হার সংশ্লিষ্ট তথ্য বোর্ড থেকে গ্রহণ ও যাচাই করা হয়। এরূপ নানা প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে।এমপিও পাওয়া ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুদ্ধাপরাধীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে বলা হচ্ছে।

যোগ্যতা বিবেচনাতেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেএমপিও দেয়া হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো রকম রাজনৈতিক বিবেচনা করা হয়নি। শুধু যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে যুদ্ধাপরাধী বা কুখ্যাত ব্যক্তিদের নামে প্রতিষ্ঠিত চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে চলেছে।’

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের পর এমপিওর তালিকায় স্থান পেলো কীভাবে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয়করণকৃত একটি প্রতিষ্ঠান এমপিওর তালিকায় এসেছে, এটি সত্য। তবে দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই একটি মাত্র ভুল, এটি শতাংশের হিসেবেই আসে না।’

তিনি বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের আগে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয় এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। এ বিষয়ে কেউ রিপোর্ট না করায় এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি এমপিভুক্তির বিষয়ে কোনো অনিয়ম নয়। সরকারিকরণের কারণে স্বাভাবিকভাবে এ প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির কোনো প্রয়োজন না থাকায় এ আদেশ ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাভাবিকভাবেই কার্যকর হবে না।’

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেসব তথ্যের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে, যাচাইয়ে যদি তা ভুল বা অসত্য প্রমাণ হয়, তাহলে ওইসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী জানান, ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অযোগ্য বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ঝলইশাল শিরি ইউনিয়নের নতুনহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই বলে অভিযোগ করা হলেও এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক থেকে শুরু করে সব রকমের অস্তিত্ব রয়েছে বলে গত রোববার (২৭ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এমপিওর সব রকমের শর্ত মেনেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। আগে ভাঙাচোরা, জরাজীর্ণ ঘরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতো। এমপিও হওয়ার পর তারা নতুন করে দালান নির্মাণ করছে। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হারের তথ্য সংশ্লিষ্ট বোর্ড থেকে নেয়া হয়েছে।’

নরসিংদী আইডিয়াল কলেজ ও নরসিংদী বিজ্ঞান কলেজ ভাড়া বাড়িতে চললেও এ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্তির জন্য স্বীকৃতি একটি অন্যতম শর্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজস্ব ভবন না থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাক্রম নিজস্ব ভবনের মধ্যে পরিচালনা করা হবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়। কেউ যদি এ শর্ত পালন করে না থাকে এবং এ আদেশে এমপিওভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে পরবর্তীতে পরীক্ষাকালে উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নিজস্ব ভবনের কোনো শর্ত দেয়া না থাকায় এর এমপিওভুক্তি ঠিক আছে।’ পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার সন্দেশ দীঘি নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বসার স্থানও নেই।

এমনকি ফলাফলও ভালো নয়— এমন অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বিশেষ বিবেচনায় এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এ উপজেলা থেকে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে এ বিবেচনাতে নীতিমালা শিথিল করে সবচেয়ে ভালো ফলাফল হিসেবেই এ প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্তির তালিকায় রাখা হয়েছে।’

অনেক আগেই একটি প্রতিষ্ঠানের একটি স্তর এমপিওভুক্ত হয়েছে এ বিষয়ে ডা: দীপু মনি এমপি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যে স্তর এমপিওভুক্ত হয়েছে সে স্তরের জন্য তাদের পুনরায় আবেদন করার কথা নয়। সম্ভবত তারা ভুলক্রমে ইতোপূর্বে যে স্তর এমপিওভুক্ত হয়েছে সেই স্তরের জন্য পুনরায় আবেদন করেছে। প্রকৃত অর্থেই তারা এই ভুল করেছে কি না তা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, ‘যে ৮৯টি উপজেলায় কোনো প্রতিষ্ঠান যোগ্য বিবেচিত হয়নি সেসব উপজেলায় নীতিমালার বিশেষ বিবেচনার ধারা প্রয়োগ করে যোগ্যতার মানদণ্ড কিছুটা শিথিল করে যোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এরপরও ৩১টি উপজেলায় কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। তবে এর মধ্যে ২৩টি উপজেলার কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদনই করেনি। অর্থাৎ যেসব উপজেলা থেকে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে তার মধ্যে ৮টি উপজেলায় কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বিশেষ বিবেচনার ধারা প্রয়োগ করার পরও যোগ্য বিবেচিত না হওয়ায় এমপিওভুক্ত হয়নি।

ডা.দীপু মনি এমপি বলেন, এত যাচাই বাছাইয়ের পরও যদি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো অযোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে তবে অবশ্যই সঠিক তথ্য প্রাপ্তির সাথে সাথে তার এমপিওভুক্তি বাতিল করা হবে এবং অসত্য বা ভুল তথ্য প্রদানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দেশের প্রথম এ নারী শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্তির শর্ত রয়েছে, এমপিওভুক্তির আদেশ জারির পর যেকোনো পর্যায়ে যদি প্রমাণিত হয় যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি কোনো শর্ত ভঙ্গ করেছে বা অসত্য তথ্য প্রদান করে এমপিওভুক্ত হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির আদেশ কার্যকর হবে না এবং অসত্য তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১