আকাশবার্তা ডেস্ক :.
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, সড়কে আইন প্রয়োগ করতে গেলে পুলিশকে অনেক কর্মকর্তা তার বসের পরিচয় দিয়ে বদলির হুমকি দেয়। তারা কিন্তু তাদের পরিচয় দেয় না। পরিচয় দেয় বড় বড় কর্মকর্তার। পরিচয় দিয়ে বলে আমাকে চিনিস? তোকে খাগড়াছড়ি ট্রান্সফার করে দেব।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ-২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন আইজিপি। এসময় ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি সভ্য জাতির প্রতীক মন্তব্য করে এই স্লোগান নিয়ে সবাইকে সচেতন করার জন্য লক্ষ্যে ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ শুরু হয়েছে বলে জানান জাবেদ পাটোয়ারী।
আইজিপি বলেন, সড়কে আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেকেই পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে নিজের পরিচয় দেন এবং বদলির হুমকি দেন। তবে আমি আশ্বস্ত করছি এর জন্য কোনও কর্মকর্তা বদলি হবেন না। তবে পুলিশের সবার ব্যবহার বিনয়ী হতে হবে।
আইজিপি বলেন, সড়কে সব স্থানে বাস থামবে লেখা না থাকলেও বাস থামার জন্য নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। কিন্তু চালকরা সেটা না মেনে বাসস্টপের আগে পরে থামেন। এতে পথচারী ও যাত্রীর সমস্যা হয়। এর জন্য সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে।
তিনি বলেন, ধরেন আপনি (চালক) একটি বাসের আগে গিয়ে সামনের স্ট্যান্ড থেকে দু-জন লোক বেশি উঠাবেন। কিন্তু সামনেই স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখবেন আপনার আগে গিয়ে আরেকজন চালক দ্নিই যাত্রী আগে উঠিয়ে নিলেন। তাহলে আপনার লাভ কী হলো? বরং সবাই যদি আইন মেনে চলে তাহলে কারোই সমস্যা হবে না। দুর্ঘটনাও কমে আসবে।
জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রধানত “ত্রিপল ই” বিবেচনায় রাখা হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং, এডুকেশন, এনফোর্সমেন্ট। এর মধ্যে পুলিশ শুধু এনফোর্সমেন্ট দেখে। কিন্তু সড়কে কোনো সমস্যা হলেই সবাই ট্রাফিক পুলিশকে দোষারোপ করে। একটা সিটির রাস্তা থাকা প্রয়োজন ২৫ শতাংশ। কিন্তু আমাদের আছে মাত্র ৮ শতাংশ। এটা আদর্শ একটি সিটির তিন ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম।
সড়কে ট্রাফিক শৃংখলা বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বাংলাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে নো হেলমেট, নো ফুয়েল নীতি পালন করছে। আমরা চাই সড়কে একটি জীবনও যেন হানি না হয়, প্রতিটি জীবনই অমুল্য।