সোমবার ১৬ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় যে দুইজন

আকাশবার্তা ডেস্ক :

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস শনিবার (২৩ নভেম্বর)। এর মাধ্যমে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে।

আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সূত্র বলছে, এবার সভাপতি পদে একেবারে নতুন মুখ আসতে পারে। চেয়ারম্যান পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির দুই ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপস ও শেখ ফজলে শামস পরশের নাম। তবে বেশিরভাগ সূত্র মনে করছেন, শেখ ফজলে শামস পরশই হচ্ছেন যুবলীগের পরবর্তী চেয়ারম্যান।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে অবৈধ পন্থায় অঢেল সম্পত্তি ও সরকারি দলের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বেশ কিছু যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মূলত দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রবাজি, ক্যাডারবাজি, দুর্নীতি, ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় সরকারের শুদ্ধি অভিযানে আটক ও পদহারা হন সংগঠনের একাধিক প্রভাবশালী নেতা। সংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকার ক্ষুব্ধ হন বঙ্গবন্ধুকন্যা। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সংগঠনটির সপ্তম কংগ্রেসের মাধ্যমে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী, মেধাবী এবং পরীক্ষিত নেতৃত্বে নির্ধারণ করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে যুবলীগ গঠন করেন তার ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি। ১৯৭৪ সালে যুবলীগের প্রথম কংগ্রেসে তিনিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ ২০১২ সালে ষষ্ঠ কংগ্রেসে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান শেখ মনি ও শেখ সেলিমের ভগ্নিপতি ওমর ফারুক। তারপর ছয় বছর নির্বিঘ্নে কাজ করে এলেও সম্প্রতি ক্যাসিনোকাণ্ডে বড় ধাক্কা খান ওমর ফারুক; সেই সঙ্গে সমালোচনায় নাকাল হয় যুবলীগ।

যুবলীগ নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে শেখ হাসিনা বিরক্তি প্রকাশ করলে ঢাকার ক্রীড়া ক্লাবগুলোতে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত সেপ্টেম্বরে ওই অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে।

র‌্যাবের অভিযান শুরুর পর ঢাকা মহানগর যুবলীগের শীর্ষ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের পক্ষে দাঁড়িয়ে সমালোচনায় পড়েন ওমর ফারুক। পরে সম্রাট গ্রেপ্তার হলে চুপ মেরে যান তিনি। তারপর থেকেই যুবলীগের কার্যক্রমে তাকে আর দেখা যায়নি।গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের সর্বশেষ বৈঠকেও ছিলেন না যুবলীগ চেয়ারম্যান।

গত ২১ অক্টোবর ওই বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ওমর ফারুককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে সদস্যসচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে। যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সবাইকে এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

কাদের সেদিন বলেন, এবারের সম্মেলনে বিতর্কিত কেউ থাকছে না। কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতরা কমিটিতে আসতে পারবে না।

বরাবর কংগ্রেস ঘিরে যুবলীগে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও এবারের পরিস্থিতি তেমন নয়। শুদ্ধি অভিযানের মুখে অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। বাকিরাও মুখ খুলছেন না।

সক্রিয় যুবলীগ নেতাদের বাইরে আর যাদের নাম শোনা যাচ্ছে নতুন কমিটির জন্য, তাদের কেউ আগ বাড়িয়ে আগ্রহের কথা প্রকাশ করছেন না।

পদ প্রত্যাশীদের অনেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও ধানমণ্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া-আসা করলেও, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ালেও তা কতটা কাজে আসবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন যুবলীগের নেতারা।

তারা বলছেন, এবার নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভিন্ন জেলা ও সাংগঠনিক শাখা থেকে দুই হাজারের বেশি প্রতিনিধি কংগ্রেসে থাকবেন। তারা সবাই প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে থাকবেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১