বুধবার ১১ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আর সংকট থাকবে না নিত্যপণ্যে!

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :

পেঁয়াজ, লবণ, তেল, চিনি ডাল— এসব নিত্যপণ্যে ভবিষ্যতে আর কোনো সংকট হবে না। সরকার ও ব্যবসায়ীরা মিলে আগামীতে ভোগ্যপণ্যের বাজারে সুষম সরবরাহের মাধ্যমে সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চত করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে দেশকে আর পেঁয়াজ সংকটের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়। পেঁয়াজ মজুদ করে যারা সংকট তৈরি করেছে সেসব মজুদকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হবে। কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যবসায়িক সংগঠন অহেতুক কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সারা বছর বাজারের এ স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগে একযোগে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল রোববার নিত্যপণ্য নিয়ে এফবিসিসিআইতে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সরকারের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা। নিত্যপয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর বছরব্যাপী চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি-মজুদব্যবস্থা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাসংক্রান্ত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁঁইয়া, শিল্প সচিব আবদুল হালিম, খাদ্য সচিব শাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলামসহ বাণিজ্য, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, এসআলম গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর একটায় শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ এই বৈঠক চলে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত পরিসরের ব্রিফিং করেন বৈঠকের সভাপতি ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বছরব্যাপী যে চাহিদা আছে, যে পরিমাণ উৎপাদন হয় এবং যারা আমদানি করেন তা কি পরিমাণ করেন, কেমন দামে করেন।

বাজারে এর যৌক্তিক দাম কেমন হওয়া উচিত— এসব বিষয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি-ভবিষ্যতে আর কোনো নিত্যপণ্যের সংকট তৈরি যাতে না হয়, সে বিষয়ে আমরা সরকারি-বেসরকারিভাবে আরও সতর্ক থাকবো। পণ্যের সঠিক মূল্যায়ন, উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ পরিস্থিতি ঠিক রেখে বাজারে মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে। যাতে ভবিষ্যতে কোনো অবস্থাতেই বাজারে পেঁয়াজের মতো কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি না দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, এজন্য ভোক্তাপর্যায়ে সুলভমূল্যে পৌঁছাতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ইতোমধ্যে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে তার দ্রুত উত্তরণ ঘটানো হবে। কোনো ব্যবসায়ী বা সংগঠন অহেতুক কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে সংকট সৃষ্টি করলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এফবিসিসিআই।

এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি করায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বড় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিমানে ও জাহাজে করে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সংকট কেটে উঠবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বেশি চাপ দিলে বাজারে উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।

চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মানুষ মোটা চালের পরিবর্তে এখন সরু চাল বেশি খাচ্ছে। এ কারণে সরু চালে বেশি চাপ পড়ায় দাম কিছুটা বাড়লেও এখন চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে পাইকারি বাজারে যে দাম তার তুলনায় খুচরা বাজারে কেজিতে ৭-৮ টাকা দামের পার্থক্য থাকার বিষয়ে তিনি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে কঠোর তদারকির পরামর্শ দেন।

পেঁয়াজের মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই বাংলাদেশি। কেউ সরকার পক্ষ বা বিরোধী পক্ষ দেখছি না। আমরা তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সোজাসাপ্টা মেসেজ দিয়েছি। যদি কেউ পণ্যের মজুদদারী করে বাজারে পণ্যের অহেতুক চাপ সৃষ্টি করে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের আরও একটা মেসেজ দিয়েছি— বাজারে কোনো নিত্যপণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। পেঁয়াজ নিয়ে সংকট হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজ বাজারে আছে। এজন্য কাদের কাছে পেঁয়াজের মজুদ ছিল, তারা কখন আমদানি করেছে, কথন ও কত টাকায় বিক্রি করেছে তা এনবিআর খতিয়ে দেখছে। এসব পণ্যে কোনো ট্যাক্স বা শুল্ক নেই। তাই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। চালের ওপর শুল্ক আছে। কারণ উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। তার সুরক্ষাতেই সেটা করা হয়েছে। তাই ভোক্তাদের জানাতে চাই লবণ, তেল, চিনি, ডাল— এজাতীয় নিত্যপণ্যে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে না।

পেঁয়াজের চাহিদা, উৎপাদন ও মজুদ পরিস্থিতিসংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি মো. নুর উর রহমান বলেন, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা আছে ২৪ লাখ মেট্রিক টন। রমজানে তা আরও ২ লাখ টন বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে দেশে যে পরিমাণ উৎপাদন হয় তার ২২-২৮ শতাংশ, পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়। ফলে প্রতিবছর ৯-১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। যার ৯৮ শতাংশই আমদানি হয় ভারত থেকে। তবে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শুল্ক নেই।

এদিকে বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ব্যবসায় লাভের ব্যাপার আছে। তেমনি পরিমিত মুনাফার ব্যাপারও আছে। সেটা যদি অনৈতিক ব্যবসা হয়ে যায় তাহলে দেশ টিকবে না। দেশ না টিকলে আপনিও ব্যবসা করতে পারবেন না। তাই বলব, আপনার ব্যবসা পরিচালনায় যেটুকু খরচ পড়বে সেই খরচের মধ্যেই পরিমিত মুনাফা করবেন। সহনশীল বাজার যদি না রাখেন তাহলে ভোক্তারা মারা পড়বে।

চালের দাম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কেন সেদিন ৬০ টাকা হল? সরু চালে কেন ৩-৪ টাকা করে বাড়ল। আমরা চাল ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করেছিলাম। তাদের বলেছিলাম- ঠিক আছে, সরু চালের দাম যেহেতু বেড়েছে। তার মানে চালের সংকট আছে। তাহলে সরকার কিছু সরু চাল আমদানি করুক। উপস্থিত চাল ব্যবসায়ীরা সঙ্গে সঙ্গে বলল না না— এ কাম কইরেন না। এই কাম কইরেন না। আমি বললাম, তাহলে চালের দাম কমাতে হবে। দাম কমে গেছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১