অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ ১ ও ২ টাকা মূল্যের কয়েন (ধাতব মুদ্রা) অচলের পথে। আর তাই নবীনগরে ১ ও ২ টাকা মূল্যের কয়েনের দেখা নেই বললেই চলে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের। ভিক্ষুকও এখন আর ১ ও ২ টাকার কয়েন নিচ্ছেন না।
পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর, ব্ঞ্ছারামপুর, কসবা ও রায়পুরা উপজেলায় ১ ও ২ টাকা মূল্যের কয়েন চললেও নবীনগরে অচলের পথে।
২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি সচিবালয়ে ‘ভ্যাট সংশোধন আইন’ সংক্রান্ত বৈঠকে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগামীতে ৫ টাকা ছাড়া কোন মুদ্রা না রাখার চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। নতুন ৫ টাকার মুদ্রা বাজারে ছাড়া হবে এবং তার আগে ৫ টাকা মানের মুদ্রার নিচে যে মুদ্রা আছে (১ ও ২ টাকা) সেগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়া হবে।
খবরটি নবীনগরে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তখন থেকেই ১ ও ২ টাকার কয়েন দিয়ে ক্রেতা বা বিক্রেতা লেনদেনে বিরত থাকেন।
ব্যাংকগুলোতে প্রথম দিকে ১ ও ২ টাকার কয়েন নিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হয়। সেই থেকে ১ ও ২ টাকা কয়েন নিয়ে প্রায়ই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে কথা কাটাকাটি থেকে ঝগড়াও হয়েছে। এতে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের।
অনেকে আবার নবীনগর থেকে ১ টাকা ও ২ টাকার কয়েন স্বল্পমূল্যে বা অর্ধেক দামে কিনে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় গিয়ে লেনদেন করছেন।
নৌকাঘাটের ব্যবসায়ী মুসা মিয়া বলেন, ‘অহন ১ টেহা ও ২ টেহার পুইসা চলে না, এতে কইরা কাস্টমারের লগে অনেক সময় কতা কাডাকাডি অয়’।
নবীনগর বড় বাজারের মুদি দোকানি বলেন, ‘আগে ব্যাংকে ১ টেহা ও ২ টেহার পুইসা নিতো অহন নেনা যেই কারণে আমরাও নেই না। আবার কোন কোন ব্যাবসয়ী ১ টাকার চকলেট দিয়ে দেনা পরিশোধ করে।’
কাজী টুটুল নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘এখন ৪/৯ টাকার দামের কোন কিছু কিনলে দোকানিরা ১০/৫ টাকা রেখে দেয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবৎ কয়েন সমস্যায় ভুগলেও প্রতিকার হচ্ছে না। দ্রুত নবীনগরের কয়েন সমস্যার সমাধানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
নবীনগর বাজারের ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম জনি বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন ১ ও ২ টাকার কয়েন নিতে চায় না এবং আমি নিজেই ব্যাংকে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে বলেছে অল্প পরিমাণ কয়েন হলে নেওয়া যাবে বেশি নেওয়া যাবে না।
এ তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করতে এ প্রতিনিধি ২/৩ টি ব্যাংকে যোগাযোগ করলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকরা জানান, অল্প পরিমাণ কয়েন হলে নিতে কোন সমস্যা নেই, আমরা নিচ্ছি কিন্তু কেউ যদি ২-৩ হাজার টাকার কয়েন একসাথে নিয়ে আসে আমাদের সমস্যা হয়ে যায়, বহন করতে কষ্ট হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছি এবং কয়েক মাস আগে আমি সবগুলো ব্যাংকে চিঠি দিয়ে অবগত করেছি, কোন গ্রাহক যাতে ১ ও ২ টাকার কয়েন নিয়ে হয়রানির শিকার না হয়।