সোমবার ১৬ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আ.লীগে নেতৃত্ব পেতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা

আকাশবার্তা ডেস্ক :

ক্ষমতাকেন্দ্রিক আর স্বার্থবাদী রাজনীতিতে মেতে উঠেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা। নিজের কাঙ্ক্ষিত পদ এবং স্বার্থ হাসিলে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারসহ অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। চলমান ক্ষমতাসীন দলটির সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর সম্মেলন ঘিরে এমন তৎপরতা প্রকাশ্যে বের হয়ে আসছে। যা নিয়ে দলটির হাইকমান্ড বিব্রত। চলতি নভেম্বর মাসজুড়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন চলছে। এরই মধ্যে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে।

গত ২৩ নভেম্বর শনিবার শেষ হয়েছে যুবলীগের সম্মেলন। প্রতিটি সম্মেলনেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে অপপ্রচার চলেছে। আর এসব অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন সংগঠনেরই এক শ্রেণির নেতাকর্মী। দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের দপ্তরগুলোতে গত মাসে এ সংক্রান্ত কয়েক শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।

ওইসব অভিযোগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা ধরনের তথ্য দেয়া হয়। নারী কেলেঙ্কারি, অবৈধ অর্থের মালিক, ভবন দখল, বিদেশে অর্থ পাচারসহ নানা তথ্য দেয়া হয় সুনির্দিষ্ট ডকুমেন্ট ছাড়াই। একই দলের হয়ে শুধু অন্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া সম্মেলনের পরও পদ পাওয়া একাধিক নেতাকে নিয়ে চলছে অপপ্রচার। ক্ষোভে একে অন্যের বিরুদ্ধে ‘ব্লেম গেমে’ নেমেছেন পদবঞ্চিতদের কেউ কেউ।

নিজ দলের নেতাকর্মীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় না যেতে বারবার সতর্ক করা হলেও আমলে নিচ্ছে না এক শ্রেণির নেতারা। খোদ আ.লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকবার দলীয় ফোরামে সতর্ক করেছেন। আগামী ৩০ নভেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন।

এ সম্মেলনকে ঘিরেও নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রতিপক্ষতে নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন অনেকে। এরপরও থেমে নেই এক নেতা অপর প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর প্রতিযোগিতা।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, অপরাজনীতির এই বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর। এসব অপতৎপরতা দলের জন্য ক্ষতিকর, যারা এগুলো করছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইতোমধ্যে চারটি সহযোগী সংগঠনের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি কাউন্সিলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টও দেখা হয়েছে। অর্থাৎ সার্বিক দিক বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়েছে। কৃষক লীগের সম্মেলনের আগে থেকেই ‘ব্লেম গেমে’র সূচনা হয়।

ওই সম্মেলনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা অপ্রপচার চালানো হয়। এরপর ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। ওই সম্মেলনের আগেও কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি দপ্তরগুলোতে অভিযোগসহ বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে বুস্ট করেও চলে অপতৎপরতা। একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয় শ্রমিক লীগ ও যুবলীগের। যুবলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়।

এদিকে, সম্মেলন পরবর্তী সময়ে যারা নেতৃত্ব পেয়েছেন, তাদের ঘিরেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও পরিবারের সদস্যদের ঘিরে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে নির্বাচিতদের কেউ কেউ টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত ছিলো, কখনো বলা হচ্ছে বিতর্কিত নেতাদের সাথে যোগাযোগ ছিলো।

আবার রাজনীতিতে সমপ্রতি বিতর্কিত হয়েছেন, এমন কারো সাথে আগে তোলা ছবি সামনে এনে বলা হচ্ছে তার কাছের মানুষ। এসব অপতৎপরতা পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। দলের সুবিধাবাদী নেতাদের মাধ্যমে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির জন্য এসব করানো হচ্ছে।

কাঁদা ছোড়াছুড়ি ও অপপ্রচারের নামে যারা দলবে বিভ্রান্ত করছে, তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে একাধিক মহলে। ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, সম্মেলন আসলেই একটি কুচক্রী মহল দলের পরীক্ষিত-ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে।

এরা প্রকৃত আওয়ামী লীগার না, খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, তাদের পরিবারের লোকজন বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ মনে করেন, সরকার ও দলের বিরুদ্ধে সবসময় অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত।

সুতরাং আওয়ামী লীগের ভেতরে প্রবেশ করে যারা গুজব-সন্ত্রাস ও অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মা। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল বলেন, যারা এসব করছে, তারা ব্যক্তিস্বার্থের জন্য দলকে বিব্রত করছেন। তাদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এগুলো চরিত্র হননের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। সর্বোচ্চ যাচাই-বাছাই করে সহযোগী সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে। এগুলো আসলে রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণকে শক্তিশালী করার চেষ্টা। দল এসব ক্ষেত্রে আরো কঠোর হবে এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আওয়ামী লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দলীয় ফোরামে জানানো উচিত। সেটা না করে যারা অপপ্রচার করেন, এটা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ। যারা এসব করবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে নেত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১