আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতীয় সংসদে কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব নিলেও চিনের প্রতি কেন্দ্র নমনীয়। এ নিয়ে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন।
এ সময় তার অভিযোগ খণ্ডন করে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেন, দেশের সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা সর্বদা কড়া নজর রাখেন। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় যে কারও বিরুদ্ধে তৈরি সেনাবাহিনী। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
বুধবার ভারতের লোকসভায় ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমায় চীনের জাহাজ ঢুকে পড়ার ইস্যুতে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এর আগে মঙ্গলবারই নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল করমবীর সিংহ বলেন, দিল্লির অনুমতি না নিয়ে সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়েছিল ‘শি ইয়ান ১’ নামে একটি চিনা জাহাজ। পিছু তাড়া করে নৌবাহিনী সেটিকে ভারতীয় জলসীমার বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে।
অধীর চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় দেয়, আর চিন দেয় পাকিস্তানকে। আন্দামান-নিকোবর অঞ্চলে জাহাজ পাঠাচ্ছে চিন। যখন পাকিস্তানের প্রশ্ন ওঠে, তখন আমরা কড়া অবস্থান নিই। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে অনেক নমনীয় অবস্থান নেওয়া হয় কেন?’
জাহাজ ঢুকে পড়ার ঘটনাকে ‘দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুতর’ বিষয় বলেও মন্তব্য করেন বহরমপুরের সাংসদ।
জবাবে রাজনাথ সিংহ বলেন, ‘ভারত-চিনের মধ্যে পারস্পারিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কোনও লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নেই। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে মতভেদের জন্যই মাঝেমধ্যে চিনা অনুপ্রবেশ ঘটে। আমি সেটা মানি।’
তিনি বলেন, ‘কখনও চিনের সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে, কখনও বা ভারতীয় বাহিনী চিনের সীমান্ত পার হয়ে যায়। তবে দেশের ঐক্য, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় রাস্তা, টানেল, রেললাইন, এয়ার বেস তৈরির মতো পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি সংসদকে নিশ্চিত করতে চাই, আমাদের সেনাবাহিনী সারাক্ষণ সীমান্ত সুরক্ষায় তৎপর। আমাদের বাহিনী যে কোনো সময় যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি।’