আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিদ্ধেশ্বরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের ফটক থেকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আধা ঘণ্টার এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহফুজুল হক ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে যান। সেখানে তারা মানববন্ধন করে রুম্পা ‘হত্যার’ সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এর আগে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে ওই ছাত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে জায়গায় এ ঘটনা, তার আশপাশে বেশকিছু ছেলে ও মেয়েদের হোস্টেল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে রমনা থানার ওসি জানান, নিহতের নাম রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা। তার বাবার নাম রোকন উদ্দিন। তিনি হবিগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত। রুম্পার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। রাজধানীর মালিবাগ শান্তিবাগ এলাকায় মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শারমিন দুটি টিউশনি করে বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। পরে তিনি কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হন। বাসা থেকে নিচে নেমে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও পরা স্যান্ডেল বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরোনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাসায় ফিরে আসেননি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি। শুক্রবার খবর পেয়ে শারমিনের মাসহ স্বজনেরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে শারমিনকে শনাক্ত করেন।
ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, উপর থেকে পড়েই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে তার মৃতদেহ থেকে হাইভেজেনাল সপসহ ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পরীক্ষানাগারে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেয়া হবে।
এদিকে, রুম্পার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন ওই থানার এসআই আবুল খায়ের।
তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর রুম্পা বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। সঙ্গে নিজের মোবাইল ফোনও নেননি তিনি।
উঁচু থেকে পড়ে শরীরের যে ধরনের জখম হয়, রুম্পার শরীরে সে ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা খায়ের।
রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং সেখানে কীভাবে তার লাশ পড়ে থাকল, সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।