শুক্রবার ২৭শে মার্চ, ২০২৬ ইং ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দর্শকবিহীন বিপিএল’র প্রথম দিন

স্পোর্টস ডেস্ক :

মিরপুরের মাঠে এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএলের চট্টগ্রাম-সিলেটের প্রথম ম্যাচের দৃশ্য সারা মাঠে মাত্র কয়েকশ দর্শক ছাড়া গ্যালারির বাকি অংশ পুরোটাই ফাকা। এমন দৃশ্য বিপিএলে বড়ই বেমানান।

স্টেডিয়ামের বাইরে বিপিএলের বিভিন্ন দলের জার্সি, ক্যাপসহ নানা ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রি করছে হকররা। কিন্তু দর্শকদের মাঝে জার্সি কিংবা কোন কিছুই কেনার তেমন আগ্রহ দেখা গেল না।

মাঠে প্রবেশ করার গেইটে গিয়েও একই দৃশ্য। স্টেডিয়ামের প্রায় সবগুলো গেটই ফাকা। ক্রীড়া প্রেমীদের মাঝে তেমন আগ্রহ দেখা গেল না মাঠে গিয়ে খেলা দেখার। মাঝে মাঝে কয়েকজন দর্শক হাতে টিকিট নিয়ে মাঠে প্রবেশ করলেও তাদের মুখেও তেমন উচ্ছ্বস নেই এবারের বিপিএল নিয়ে।

বিপিএল শুরুর আগের দিন অন্যবার শেরে বাংলা ও তার আশপাশে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা চোখে পড়ে, এবার তার ছিটেফোঁটাও ছিল না। অন্য সময় খেলা মাঠে গড়ানোর আগের দিন বিকেল থেকে অনেক রাত অবধি হোম অব ক্রিকেটের বাইরে অপক্ষেমান দর্শক, ক্রিকেট অনুরাগীদের ভিড় চোখে পড়তো। আজ তা ছিল না। জটলা বেঁধে খেলা নিয়ে কথাবার্তা দূরের কথা, স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখা নিয়েও ভ্রুক্ষেপ ছিল না কারোর। তখনই বোঝা গেছে দর্শক উৎসাহ, আগ্রহ এবার কম।

সত্যিই তাই। খেলা শুরুর আগে শেরে বাংলার পূর্ব ও পশ্চিম দিকে অন্তত ৩০০-৪০০ গজ এলাকায় পড়ে যায় সাজসাজ রব। রাস্তাও বন্ধ করে দেয়া হয়। এবার সব রাস্তাই খোলা। খেলা শুরুর আধঘণ্টা আগে যখন টস হলো, তখনও স্টেডিয়াম প্রায় পুরোটাই খালি। টসের পরও হোম অফ ক্রিকেটের পূর্ব দিকের সাধারণ গ্যালারিতে সাকুল্যে শ’ দেড়েক দর্শকের দেখা মিলেছে।

একই অবস্থা গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড, ক্লাব হাউজগুলোতেও। সব মিলে দর্শকখরা শুরু থেকেই।

অবশ্য সেটারও একাধিক কারণ আছে। আগের ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরগুলোয় একটা সুবিধা ছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিজ নিজ সমর্থকদের জন্য সৌজন্য টিকিটের ব্যবস্থা করতো। তাতে করে বাড়তি সমর্থনপুষ্ট হয়ে খেলার সুযোগ থাকতো। কিন্তু এবার যেহেতু ফ্র্যাঞ্চাইজি নেই। তাই সে সুযোগও নেই।

এখন সৌজন্য টিকিটে খেলার দেখার সুযোগ ও সম্ভাবনা দুই’ই গেছে কমে। তার সাথে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের মূল্য ২০০ টাকা। শেষ পর্যন্ত বিপিএল দর্শক টানতে পারবে কি না? পারলেও কতটা পারবে? আগের মত শেরে বাংলা ক্রিকেট অনুরাগীদের সরব উপস্থিতিতে বিপিএল উত্তেজনায় মেতে উঠবে কি না? সেটা আসলে সময়ই বলে দেবে।

তবে সেক্ষেত্রে মাঠের লড়াইটাও জমতে হবে। হাই স্কোরিং গেম হওয়া খুব জরুরি। উইকেট শতভাগ ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি হওয়াও যে দরকার। ব্যাটসম্যানরা হাত খুলে শটস খেলতে পারলে চার ও ছক্কার ফুলঝুরি ছুটবে। খুব স্বাভাবিকভাবেই রানের নহরও বইবে। তাহলেই কেবল টি টোয়েন্টির প্রকৃত আস্বাদন মিলবে। আর তা হলেই কেবল দর্শক হবার সম্ভাবনা থাকবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১