আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে সোমবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হারলো দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দল বিজেপি।
সোমবারের (২৩ ডিসেম্বর) এ নির্বাচনে গভীর রাতে প্রকাশিত ফলে, ৮১ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ২৫টি, গত নির্বাচনের চেয়ে যা ১২টি কম।
এদিকে ঝাড়খণ্ড মুক্তি কংগ্রেস, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) জোট পেয়েছে ৪৭টি আসন।
যার মধ্যে হেমন্ত সোরেনের দল জেএমএম ৩০টি, কংগ্রেস ১৬টি ও আরজেডির একটি আসন পেয়েছে।
বিজেপি ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা সরযূ রাইয়ের কাছে হেরেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। হারার আভাস পাওয়ার পর সোমবার রাতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে হার স্বীকার করে নেন রঘুবর। তিনি বলেন, এটা আমার হার, বিজেপির নয়।
ঝাড়খণ্ডের পাঁচ দফার ভোটে মোট নয়বার প্রচারে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
রাঁচীতে বসে বিজেপি নেতারা বলেছিলেন, কয়েক মাস আগের লোকসভা নির্বাচনের মতো মোদি-ম্যাজিকে ভর করে ঝাড়খণ্ডে আবারও ক্ষমতায় আসবেন তারা।
মোদির মতো রাজ্যে ৯ বার প্রচারে এসেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। দু’জনেই প্রচার করেছেন কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, রামমন্দির নির্মাণ, তিন তালাক রদ, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালুর সাফল্য-গাথা।
কিন্তু ভোটের ফলে সেই প্রচারকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে হেমন্তের ‘জল-জঙ্গল-জমি’র অধিকারের লড়াই। আদিবাসী-ওবিসিসহ অন্যরাও ভোট দিয়েছেন নিজের অপ্রাপ্তির হিসেব কষে। তাই রাজ্যের ২৬ শতাংশ আদিবাসী ভোট ছাপিয়ে জেএমএম জোটের প্রাপ্ত ভোট প্রায় ৩৭ শতাংশ।
বিজেপির একটি সূত্র রাতে জানিয়েছে, মোদী-শাহ যে সব জায়গায় জনসভা করেছিলেন, তার বেশির ভাগ এলাকায় দল হেরেছে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধেও ঝাড়খণ্ডবাসী ভোট দিয়েছেন বলে অভিমত পর্যবেক্ষকদের। এই বিল পাশ হওয়ার পর দু’দফায় ১৮টি আসনে ভোট হয়েছিল রাজ্যে। রাত পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে এর মধ্যে ১২টিতেই ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির।
উল্টো দিকে সাঁওতাল পরগনায় প্রচারে গিয়ে জেএমএম’র হেমন্ত সোরেন স্পষ্ট বলেছিলেন, জেএমএম জিতলে ঝাড়খণ্ডে সিএএ বা এনআরসি কিছুই হবে না। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হতে চলেছেন হেমন্ত।
বিজেপির জনগণকে হয়রানির প্রতিবাদে এ রায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেন, মানুষ মরছে। নোটবন্দির সময় কত মানুষ লাইন দাঁড়াতে গিয়ে মারা গেছে।
যখন আপনাদের (বিজেপি) আইনে মানুষ মরছে, তখন কাউকে তো দায়িত্ব নিতেই হবে। শুধু মুসলিমদের নয়, সব জনগণকে আবার লাইনে দাঁড়াতে হবে- এটা প্রমান করতে যে তারা ভারতীয়। এদেশে অনেক কৃষক আছেন। তারা পেটের ভাত জোগাড় করবে না কাগজ জোগাড় করবে?
এদিকে পরাজয়ের আভাস পেয়ে সোমবার রাতেই রাজ্যপাল দৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রঘুবর দাস। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে বলেছেন রাজ্যপাল।
বিজেপির হার প্রসঙ্গে রঘুবর বলেন, আমাদের আশা অনুযায়ী জনমত হয়নি। হেমন্ত সোরেনকে অভিনন্দন। আশা করি, নতুন সরকার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই হারের পর্যালোচনা করা হবে।
২০০০ সালে গঠিত ঝাড়খণ্ড রাজ্য গত মাসে ২০ বছরে পা দিয়েছে। এটি রাজ্যের চতুর্থ বিধানসভা নির্বাচন। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়ে চলে ৪টা পর্যন্ত। ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় মোট আসন ৮১টি। সরকার গড়তে প্রয়োজন ৪১।
সূত্র : এনডিটিভি ও আনন্দবাজার