আকাশবার্তা ডেস্ক :
‘বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আলু সেন্টার হবে’ চলতি বছরের ২৫ জুলাই এমনটা বলেছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এর কয়েকমাস পর জানা গেলো, আলুর চাষ দেখতে ইউরোপ সফরে যাবেন সরকারি ৪০ কর্মকর্তা।
আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে অষ্টম স্থানে থাকলেও রপ্তানিতে একেবারে তলানিতে। তাই রপ্তানিযোগ্য আলুর উৎপাদন বাড়াতে ইউরোপে আলুর চাষাবাদ পদ্ধতি দেখতে যাবেন এসব কর্মকর্তারা।
এজন্য মানসম্মত আলুবীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ হিসাবে জনপ্রতি বরাদ্দ সাড়ে ৭ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কর্মকর্তা ধাপে ধাপে যাবেন। সফরে চাষাবাদ দেখার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞানও অর্জন করবেন।
বিএডিসি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে বছরে ১০৩ দশমিক ১৭ লাখ টন আলু উৎপাদন হচ্ছে। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব। কিন্তু তা রপ্তানি করা যাচ্ছে না। এজন্যই ৬৮৮ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। যার আওতায় মানসম্মত আলু উৎপাদনে ৮ হাজার ৪০০ কৃষকের সঙ্গে চুক্তি করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে খুব শিগগিরই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক (বীজ) মো. নূরনবী সরদার বলেন, আমাদের দেশে উৎপাদিত আলু রপ্তানি উপযোগী নয়। এগুলো খাবারের জন্য ব্যবহার করা যেতে পাবে। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজে ব্যবহারের জন্য উন্নত আলু দরকার, যা আমাদের দেশে উৎপাদন হয় না। এজন্য গৃহীত প্রকল্পের মাধ্যমে সেসব উন্নতজাতের উৎপাদন বাড়ানো হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় চারটি ধাপে ৪০ কর্মকর্তা বিদেশ যাবেন। কোন দেশে যাবেন তা ঠিক না হলেও এক্ষেত্রে ইউরোপের দেশগুলো বেশি উপযুক্ত দেশ বলে তিনি জানান।
কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে সাড়ে ৭ লাখ টন আলুবীজের চাহিদা রয়েছে। সরকারি সংস্থা বিএডিসি আলুবীজ চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশ এবং বেসরকারি খাত থেকে মাত্র ১ শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অবশিষ্ট ৯৫ শতাংশ আলুবীজ কৃষকরা নিজেরাই উৎপাদন করেন অথবা স্থানীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করছেন। এখন রপ্তানি বাড়াতে প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু কাজ করা হবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, দেশে আলু উৎপাদন ও রপ্তানির একটি বিরাট সম্ভাবনা আছে। কিন্তু উপযুক্ত জাতের আলু উৎপাদন হচ্ছে না। এজন্য রপ্তানি উপযুক্ত জাতের আলুর উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানের দরকার রয়েছে। আলোচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে সেটা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।