আকাশবার্তা ডেস্ক :
দশম দিনের মতো প্রচারণা শেষ। এখনো ওদের পাশে নেই মির্জা ফখরুল। জেলে বন্দি থাকায় খালেদা জিয়াও পাশে নেই। গতকাল দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রাজধানীর লালবাগ থানার সামনে ইশরাক হোসেনের পথসভা ও গণসংযোগের শেষ মুহূর্তে হঠাৎ কয়েকজনের মুখে এমন আলোচনা শোনা গেলো।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রচারণায় কবে মাঠে নামবেন শীর্ষ অনেক নেতার মুখেই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ২০১৫ সালে প্রায় সোয়া ৪ ঘণ্টা বিএনপির প্রার্থীদের প্রচারণায় নেমে খালেদা জিয়াকে হামলার মুখেও পড়তে হয়েছিল। প্রচারণাকালে তার গাড়িতে দুর্বৃত্তরা গুলিও করেছিল।
তবুও খালেদা জিয়া রাজপথে প্রার্থীদের প্রচারণায় সরব ছিলেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে বিএনপি মহাসচিবই প্রধান অভিভাবক। কিন্তু এই ১০ দিনেও দুই মেয়রপ্রার্থীর সঙ্গে প্রচারণায় দেখা যায়নি তাকে। তাই দলের ভেতর অনেকেই মির্জা ফখরুলকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য, প্রচারণার প্রথম দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে তিন মিনিট বক্তব্য দিয়ে চলে যান। প্রচারণার লিফলেট নিয়ে তিনি আর মাঠে নামেননি। ঘোষণা দিয়ে যান আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবং নির্বাচন কমিশনের চরিত্র উন্মোচন করতেই তারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।
এরপর মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ইশরাক হোসেনকে নিয়ে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত রাজধানীর অলিতে-গলিতে প্রচারণা চালান। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইশরাক এবং তাবিথের পাশে দলটির কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য, খালেদা জিয়ার বেশ কয়েকজন উপদেষ্টাকে নিয়মিত পাশে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার মতো দীর্ঘ সময় নিয়ে রাস্তায় প্রচারণায় নামলে নেতাকর্মীরা আরও বেশি রাজপথে প্রাণ ফিরে পেতো, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে কর্মীরা উজ্জীবিত হতো— এমন মত অনেকের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৮ এপ্রিল দলের সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারণায় নেমে ভোট চেয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর গুলশান, বাড্ডা, বনানী, মহাখালী, হাতিরঝিল এলাকার বিভিন্ন বিপণিবিতানে দোকানি ও পথচারীদের মধ্যে তাবিথের প্রচারপত্রও বিলি করেন।
এসময় তিনি সিটি নির্বাচনে তাবিথের ‘বাস’ প্রতীকে ভোট চান। বিকাল সোয়া ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত টানা সোয়া চার ঘণ্টা নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এর দুদিন পর ২০ এপ্রিল ফের প্রচারণায় নামলে হামলার মুখে পড়েন খালেদা
জিয়া। কারওয়ান বাজার এলাকায় হামলাকারীরা তার গাড়িবহরের প্রায় ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
হামলাকারীরা লাঠিসোটা এবং আশপাশের ভবনের ছাদ থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। ইট-পাটকেলের আঘাতে খালেদা জিয়ার গাড়ির কাচ অধিকাংশ ভেঙে যায়। তবে তিনি অক্ষত ছিলেন। খালেদা জিয়ার গাড়িতে গুলিও ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর।
গাড়িতে একটি দাগ দেখিয়ে তিনি তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘গ্লাস বুলেটপ্রুফ হওয়ায় গুলি ঢোকেনি।’ এ ঘটনায় পরদিন সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং দ্বিতীয়দিন সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি পালন করেছিল বিএনপি।
এবারো সিটি ভোটের প্রচারণায় অতীতে খালেদা জিয়ার ভূমিকাকে ভোটের মাঠে কাজে লাগাচ্ছে দলটি। প্রার্থীরাও বলছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি থাকায় এবার তিনি জনগণের কাছে ভোট চাইতে পারছেন না। তাই খালেদা জিয়ার পক্ষে, দলের পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান প্রার্থীরা।
এ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, তারা এবার দলের জন্য, ধানের শীষের প্রতীকের জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য লড়াই করছেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশের মানুষের মুক্তি ও গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য বিশেষ গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাই এবার ভোটের মাঠে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে শতশত মানুষ রাস্তায় নেমে আসছেন।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এবার ক্ষমতাসীন মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারণায় বাধা থাকায় তাদের লোক সমাগমে কিছুটা ভাটা আছে। এ সুযোগটা লুফে নেয়ার ভালো সময়। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বিএনপি রাজপথে নামতে পারে না। মাঠ দখলের শক্তি হারিয়েছে।
এবার সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের জন্য মাঠ তৈরির সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। নেতাকর্মীরা শীর্ষ নেতাদের নিয়ে প্রচারণায় নামার অপেক্ষায় রয়েছেন। মির্জা আব্বাসসহ স্থায়ী কমিটির নেতারা যেদিনই রাস্তায় নামেন সেদিনই রাস্তায় জনস্রোত নামে।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার মতো দীর্ঘ সময় নিয়ে রাস্তায় নামলে নেতাকর্মীরা আরও বেশি রাজপথে প্রাণ ফিরে পেতো। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে রাজপথে রক্ত দিতে উজ্জীবিত থাকতো। খালেদা জিয়ার কারাগারে প্রচারণায় জনস্রোতের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান এই উপদেষ্টার।
এদিকে দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই খালেদা জিয়ার কাছ থেকে দোয়া নিতে সাক্ষাতের আবেদন করেন ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল। এ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, গত ৮ জানুয়ারি আইজি প্রিজন ও জেল সুপারের বরাবর দেখা করার জন্য চিঠি দিলেও সরকার খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাকে দেখা করতে দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য আইজি প্রিজন ও জেল সুপার বরাবর চিঠি দিলেও সরকার আমাদের দেখা করতে দিচ্ছে না। আজ ১৩ দিন পার হলেও এ বিষয়ে সরকার আমাদের কিছু জানায়নি।
ইশরাক বলেন, আমাকে কেন দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছি এর কোনো সদুত্তর আমি পাইনি। তবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইনশাআল্লাহ আমার দেখা হবে। আমি সেই চেষ্টা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি।