এক্সক্লুসিভ ডেস্ক :
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে নড়াইল সদরের কুড়িরডোপ মাঠে চলছে ‘এস এম সুলতান মেলা’। এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ এই ষাঁড়ের লড়াই।
স্থানীয়ভাবে এ খেলা ‘এঁড়ে লড়াই’ নামে জনপ্রিয়। দেশীয় খেলার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমলেও এ খেলার আকর্ষণ আগের মতোই আছে।
লাল বাদশা, লাল বাহাদুর এসেছে চট্টগ্রাম থেকে। যশোর, খুলনা, মাগুরা ও গোপালগঞ্জ থেকে এসেছে কালাপাহাড়, কালোমানিক, কালো টাইগার, পাখি, কানকাটা, ময়না, ছোট হাতি ও মহেশ।
এরা ছাড়াও শনিবার ষাঁড়ের লড়াইয়ে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নড়াইলে উপস্থিত হয় নানা নামের ৪২টি ষাঁড়। রুদ্ধশ্বাস লড়াই দেখতে সকাল থেকেই নড়াইলের কুড়িরডোপ মাঠে জড়ো হয় হাজারো মানুষ।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে এর উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এসময় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান কোহিনুর, ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও সুলতান ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব আশিকুর রহমান মিকু ও নড়াইলের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবছরই সুলতান মেলায় ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন থাকে। এ লড়াইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই উত্তেজনায় ভরপুর।
খেলায় একেকটি প্রতিযোগী ষাঁড়ের সঙ্গে আট-দশজন করে লোক থাকে। তারা দুই দিকে দড়ি বেঁধে মাঠের এক দিক দিয়ে প্রবেশ করে। বিপরীত দিক থেকে প্রবেশ করে অন্য ষাঁড়।
এরপর মুখোমুখি লড়াই শুরু করে ষাঁড় দুটি। এভাবে কয়েক দফায় লড়াই চলতে থাকে। এসময় মাঠের চারপাশে উল্লাস করতে থাকে দর্শকরা।
খেলার একপর্যায়ে পরাজিত ষাঁড়টি মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায়। কখনো আবার পরাজিতকে দাবড়ে মাঠছাড়া করে বিজয়ী ষাঁড়টি। অংশগ্রহণকারী ষাঁড়গুলো যেন ভয় না পায় সে জন্য প্রতিটি দলেই একজন করে গুনিন থাকেন।
চট্টগ্রাম থেকে লাল বাদশা নামের ষাঁড় নিয়ে আসা আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সুলতান মেলার নাম অনেক শুনেছি। এই ষাঁড়ের লড়াই দেখতে এত মানুষের ভিড় হয় এটা দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি।
যশোরের অভয়নগরের কিংকর রায় বলেন, গত বছর আমার ষাঁড় ‘পাখি’ বিজয়ী হয়। এবারও সেই প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলাম।