আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পুরো চীন। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে এই আতঙ্ক। চীনের বাইরে ফিলিপাইন ও হংকংয়ে একজন করে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে এখন পর্যন্ত ৪৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন করে ৩২২৫ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজারে। এরইমধ্যে চীনের বাইরে অন্তত ২৫টি দেশ ও অঞ্চলে কমপক্ষে ১৫১ জনের শরীরে এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।
চীনের সবচেয়ে জনবহুল শহর হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার উৎসস্থল হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাই এই শহরটি এরই মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতেই হুবেইয়ে আটকা পড়েছেন এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দ্বীন মুহাম্মদ প্রিয়।
তিনি চীনের থ্রি গোর্জেস ইউনিভার্সিটির ছাত্র। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে এখন দিন কাটছে তার। হাতের মুঠোয় প্রাণ সংকট নিয়ে দ্বীন মুহাম্মদ গতকাল ফেসবুকে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
খাবারের অভাব যে কত বড় একটা অভাব তা নিজে সম্মুখীন না হলে হয়ত বুঝতে পারতাম না। পানিটা তাও ফুটিয়ে খাওয়া যায় কিন্তু খাবার না থাকলে তো আর রান্না করা যায় না। আমরা এখানে ১৭২ জন বাংলাদেশি যে কি পরিমাণ কষ্টে আছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমাদের ডর্মিটরি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। আমরা বাইরে যেতে পারি না এবং কেউ ভিতরেও আসতে পারে না। ইউনিভার্সিটি খাবার দিতে চেয়েছে সেই ৩ দিন আগে খাবার অর্ডার করেছিলাম এখন পর্যন্ত খাবার পাইনি।
এই অবস্থায় আমরা এখানে কতদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকবো সেটা জানি না। আমাদের ট্রেন স্টেশন, বিমানবন্দর বন্ধ। সরকারের সাহায্য ব্যতীত আমরা এখান থেকে বের হতে পারবো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ আমাদের এই অবস্থা থেকে রক্ষা করুন।
আমাদের এখানে কোন বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি তবুও বিশুদ্ধ পানি এবং খাবারের অভাবে অচিরেই অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়বো। দয়া করে আমাদের এখান থেকে রক্ষা করুন।
দ্বীন মুহাম্মদ প্রিয়
মেডিকেল শিক্ষার্থী
চায়না থ্রি গর্জেস ইউনিভার্সিটি। ইচাং, হুবেই।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।