আকাশবার্তা ডেস্ক :
সদ্য অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি ২২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে শুধু চা-নাস্তায় ব্যয় হয়েছে ২২ লাখ।
নির্বাচন কমিশন সূত্র থেকে অন্যান্য খরচের বিবরণে জানা গেছে, নির্বাচন পরিচালনায় খরচ হয়েছে ২১ কোটি ২২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে খরচ হয়েছে ২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে পুলিশ ও র্যাবকে দেয়া হয়েছে ৮ কোটি ১ লক্ষ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা। আনসার পেয়েছে ৯ কোটি ২৮ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৩ টাকা। বিজিবি দেড় কোটি আর রক্ষণাবেক্ষণ খাতে খরচ হয়েছে বাকি টাকা।
ইসির বাজেট শাখা জানায়, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ২ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ৪৩ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ১৮ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ২৫ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা যায়, দায়িত্ব পালনকালে এই ৪৫ কর্মকর্তা অপ্যায়ন খরচ হিসেবে দেখিয়েছেন ২২ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
দুই সিটিতে পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির ৪১ হাজার ৯৫৬ জন সদস্য কাজ করেছেন। পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত ১২৯টি মোবাইল ফোর্সে ১ হাজার ২৯০ জন, ৪৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্সে ৪৩০ জন, রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্সে ৫২০ জন সদস্য কাজ করেছেন। এছাড়া দুই সিটিতে ৬৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিলো। তাদের মধ্যে উত্তরে ২৭ প্লাটুন এবং দক্ষিণে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিলো।
নির্বাচন পরিচালনা ব্যয়ের ২১ কোটি ২২ লাখ ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভাতা ১১ কোটি ৯ লাখ ৮৭ হাজার, ম্যাজিস্ট্রেট ব্যয় দেড় কোটি, সার্বিক পরিবহন খরচ ১ কোটি ৬ লাখ ৬৪ হাজার, মনিহারি ব্যয় ২ কোটি ২৮ লাখ ৮৮ হাজার ৪৯০, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অপ্যায়ন ব্যয় ২২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া বাকি টাকা পেট্রোল, তেল ও লুব্রিকান্ট, মজুরি, যানবাহন ভাড়া, মুদ্রণ ও অন্যান্য খাতে খরচ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালের ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মোট খরচ ছিল প্রায় ২৭ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার ১৮২ টাকা। যা এ বছরের সিটি নির্বাচনী ব্যয়ের অর্ধেকর ও কম।
এদিকে বাড়তি খরচ সম্পর্কে ইসির কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, জনবল বৃদ্ধি, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে এবার ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের খরচ বেড়ে গেছে।
দুই সিটি ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয় ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর। ৩১ ডিসেম্বর ছিল দুই সিটির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।
নতুন বছরের ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ৯ জানুয়ারি। ১০ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট হবার কথা ছিলো ৩০ জানুয়ারি। তবে সরস্বতী পূজার কারণে ভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় ইসি। পরিবর্তিত তারিখে অনুযায়ী ভোট হয় ১ ফেব্রুয়ারি।
এবারই প্রথম ব্যালোট পেপার ছাড়া এত বৃহৎ পরিসরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট দেয় ঢাকাবাসী। ইভিএমের প্রচার ও প্রশিক্ষণ ব্যয় ধরলে নির্বাচনী ব্যয় আরও বাড়বে। সিটি নির্বাচনে প্রশিক্ষণ ব্যয় বাবদ ইভিএমের প্রশিক্ষণ ব্যয় ১৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছিলো। তবে পুরো টাকাটাই খরচ করেছে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট (ইটিআই)।