আকাশবার্তা ডেস্ক :
চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে ঐতিহ্যবাহি জব্বারের বলি খেলার ১০৮তম আসরে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে কক্সবাজার জেলার রামুর দিদার বলি। এই নিয়ে প্রতিযোগিতায় মোট ১৬বার শিরোপা জয় করলো দিদার। এবারের আসরে ফাইনাল রাউন্ডে দিদার একই জেলার উকিয়ার শামসু বলিকে ১৭মিনিটে ধরাশয়ী করেন। দিদার বলি সামসু বলিকে দুই বার মাথায় তুলে আছার মারার পর সামসু বলির পিঠ মাঠিতে লাগতে পারেনি দিদার বলি। কিন্তু দিদার বলির কৌশলের কাছে সামসু বলিকে হার মানতে হয়েছে তৃতীয় বার। এসময় লালদীঘির মাঠে তখন চারিদিকে দর্শকরা দিদার বলি, দিদার বলি চিৎকার করতে থাকে ।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন দিদার বলি বলেন, এই বলি খেলার পর এই আসরে আর অংশগ্রহন করবো না। নতুন যে সব বলি ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করবে তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য আয়োজকদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
রানার্স আপ সামসু বলি অভিযোগ করেন দিদার বলিকে কমিটি গায়ের জোরে চ্যাম্পিয়ন করছে। তিনি বলেন বলি খেলার কমিটি সময় না থাকার কারনে আমাকে ইচ্ছে করে হারিয়ে দিয়েছে ।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে স্থানীয় যুবকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯সালে বলি খেলার প্রচলন করেন। এবারের বলি খেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ৭০জন বলি অংশগ্রহন করেন। এদের যাবতীয় খরচ বহন করে মেলা কমিটি। চ্যাম্পিয়নকে ২০ হাজার টাকা ও রানার্স আপকে ১৫ হাজার টাকা যাথাক্রমে মেডেল সহ নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। মেলা কমিটি মেলার সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। জেলার টেকনাফ, সাতকানিয়া, মিরশ্বরাই, পটিয়া, ফটিকছড়ি, কক্সবাজার, হাটহাজারী, বাঁশখালী, আনোয়ারা, মহেশখালি, সন্দীপসহ দেশের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে এবার অনেক বেশি বলী অংশগ্রহণ করেছে।
এ খেলাকে ঘিরে চলে তিনব্যাপি বৈশাখী মেলা। যা বাঙালীর শেকড় ও প্রাণের মেলা। বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার সবচেয়ে বৃহৎ এ বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান ঘিরে রং ছড়াচ্ছে এ মেলা। প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে বসবে এই মেলা। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে পরিচিত এই বৈশাখী মেলা।
যেমন শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে, তেমনি রং ছড়াচ্ছে বৈশাখী মেলা। নগরায়ণের থাবায় লোকজ আচার-অনুষ্ঠান যখন হ্রাস পাচ্ছে সেখানে জব্বারের বলীখেলা বিলুপ্তির হাত থেকে নিজেকে এখনও রক্ষা করে জৌলুস ধরে রেখেছে।
শত বছর পার করা এই মেলা বাঙালির জীবনের বর্ণিল প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে। খেলাকে ঘিরে গড়ে ওঠা মেলা নিয়ে মানুষের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস এখনো এতটুকু কমেনি। বাংলাদেশে এ মেলা এখন চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের মেলা ও মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবছরই সবাই অপেক্ষা করে ঐতিহ্যের বলীখেলা ও মেলার জন্য।