এক্সক্লুসিভ ডেস্ক :
পহেলা ফাল্গুন এলেই রাজধানীতে চোখে পড়ে বাসন্তী সাজে তরুণ-তরুণীদের। গতকালও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। সকাল সকাল হলুদ পাঞ্জাবি আর হলুদ শাড়ি পরে তরুণ-তরুণীরা বের হয় রাজধানীতে। তবে বের হওয়ার পরই তরুণ-তরুণীদের কাছে কোনো একটা গ্যাপ মনে হয়েছে।
পাঞ্জাবি, শাড়ি পরলেও অনেকের গায়েই নেই বাসন্তী সাজ বা বসন্তের আমেজ। একে অপরের সাথে কথা বলে জানতে পারে পহেলা ফাল্গুন পরিবর্তন হয়েছে। এতে করে তারা লজ্জায় পড়েন।
অনেকে আবার এটাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। নতুন সংশোধিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পহেলা ফাল্গুন ১৩ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে আজ পালিত হবে। কিন্তু অনেকেই জানেন না এই পরিবর্তনের খবর।
দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি ১৩ ফেব্রুয়ারিকে যারা পহেলা ফাল্গুন হিসেবে উদযাপন করে আসছেন, তাদের অনেকেই গতকাল বাসন্তী সাজে বের হয়ে বেকায়দায় পড়েন। বসন্তের প্রধান উৎসব হয় চারুকলায়। সে অনুযায়ী চারুকলার সামনে বাসন্তী সাজে ভিড় জমে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশুদের।
সেখানে কোনো ধরনের আয়োজন দেখতে না পেরে খটকা লাগে তাদের মনে। সাথে সাথে এসময় তাদের দেখে অন্য অনেকেই হাসছিলেন। এতে করে বসন্ত পালন করতে আসা তরুণ-তরুণীরা লজ্জায় পড়েন।
এমনি এক নব দম্পতির সাথে কথা হয়েছে। সোহেল ও তাহমিনা গত দুই মাস আগে বিয়ে করেছেন। এটাই তাদের প্রথম ফাল্গুন। দুজন একই কালারের কাপড় পরে এসেছেন চারুকলায়। সেখানে কোনো আয়োজন না দেখে এদিক সেদিক তাকাতে থাকেন। তারা বসন্ত পালন করতে আসছেন কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে তারা আস্তে করে বলে হু, না এমনেতেই আসছি।
এমন বলে আমতা আমতা করতে থাকেন। কথা বলতে বলতে এক সময় তারা বলেন, আসলে আমরা তো জানি ১৩ ফেব্রুয়ারিই ফাল্গুন হয়। কিন্তু হঠাৎ করে এ রকম তারিখ পরিবর্তন হয়েছে সেটা আমাদের জানা ছিলো না। তবে আমাদের মনে হয়, এটা সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আগেই জানানো উচিত ছিলো।
বদলে যাওয়ার বিষয়টি বেশি শেয়ার করা হলে, হয়তো আমাদের এই হয়রানি হতে হতো না। বাসন্তী আর নীল রঙের জামায় ঝলমলে রোদ্দুরে তাহমিনার ছোট বোনের মনও খারাপ হয়ে যায়।
পহেলা ফাল্গুন উদযাপন করতে এসেছেন শেপালী আক্তার। শীতের শেষে ঋতুরাজকে বরণ করবেন কাছের মানুষকে নিয়ে। কিন্তু হায়! কোথাও তো কোনো আয়োজন নেই। ক্যাম্পাসের রাস্তায় তাই নিজেদের মতো করে ঘুরে বাসার দিকে রওনা দিচ্ছেন।
আবার কেউ কেউ জেনেশুনে অভ্যাসবশত ফাল্গুনের সাজে বের হয়েছেন ঘুরতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসমিয়া জাহান প্রভা হলুদ শাড়ি পরে ফাল্গুন উদযাপন করতে বের হয়েছেন।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ পহেলা ফাল্গুন কিনা সেটা জানি না। এমনিতেই বের হয়েছি। জুবায়ের আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছেন রাজধানীর মিরপুর থেকে।
তিনি বলেন, বটতলায় আজ পহেলা ফাল্গুনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাল ভালোবাসা দিবস এবং পহেলা ফাল্গুন একসঙ্গে পালন করা হবে। তারপরও আজ অনেকে বের হয়েছে। আমিও আসলাম। এছাড়া ক্যাম্পাসে অনেককে হলুদ শাড়ি এবং হলুদ পাঞ্জাবি পরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।
এই বিভ্রান্তির বিষয়ে শিক্ষাবিদ ড. মো. আনোয়ার হোসেন মনে করেন, এ ধরনের তারিখ পরিবর্তন হলে আগে থেকেই ব্যাপকভাবে জানানো উচিত। যাতে করে সাধারণ মানুষের সমস্যা না হয়।
তিনি বলেন, ‘বাংলা ক্যালেন্ডার এবং পঞ্জিকা দুই ধরনের তথ্য দেয়ায় সব সময়ই বিশেষ দিনগুলোকে নিয়ে কনফিউশন তৈরি হয়। ফলে সেই কনফিউশন ঘোচাতে যদি এক জায়গায় আনার কোনো প্রক্রিয়া হয়, সেটিকে আমাদের স্বাগত জানানো উচিত। একটু সময় লাগবে, কিন্তু আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠবো।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদের সভায় ২০২০ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছুটির তালিকা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে।
এতে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের চেনা ১৩ ফেব্রুয়ারি উদযাপিত পহেলা ফাল্গুন দিনটি বদলে গেছে। আর এই বদলে যাওয়া দিনটির খবর খুব বেশি প্রচার না হওয়ার কারণে গতকাল অনেকেই হয়রানির শিকার হয়েছেন।
এমন একজন তারেকুল ইসলাম। পহেলা ফাল্গুনের আনুষ্ঠানিকতা দেখে তারপর সকাল ৯টায় অফিস ধরবেন বলে সকাল সকাল বাসা থেকে বের হয়েছেন। কিন্তু ক্যাম্পাসে গিয়ে বুঝতে পারেন, কোনো একটা ভুল হয়েছে।
অনেক প্রশ্ন মনে নিয়ে অফিসে গিয়ে তারপর ফেসবুক খুলে বুঝতে পারেন, আসলে ভুলটা কোথায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও সকাল থেকে এই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। গত বছর এই দিনে মেমোরি শেয়ার করেন অনেকেই। অনেককে দেখা যায় পহেলা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা জানাতে।