আকাশবার্তা ডেস্ক :
কুয়েতে মানবপাচারে বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এ তথ্য জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে সংসদ সদস্যের কথা বললেন, আমরা শুনেছি যে এটা ফেইক নিউজ। যেসব পত্রিকাগুলো সংসদ সদস্যের মানবপাচার বিষয়টি প্রকাশ করেছে এর সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ আছে।
সম্প্রতি কুয়েত সিআইডির বরাত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কুয়েতি পত্রিকা আল কাবাস ও আরব টাইমস।
আল কাবাসের খবরে বলা হয়, কুয়েতে মানবপাচার ও ভিসা বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন বাংলাদেশির একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেখানকার সিআইডি। বাকি দুইজন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে একজন আবার সংসদ সদস্য।
ওই চক্রটি ২০ হাজার জনকে কুয়েতে পাচার করে ৫০ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা দেয়া হয়েছে ওই দুই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
কুয়েতি গণমাধ্যম ওই সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ না করলেও বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় লক্ষ্মীপুরের একজন এমপির নাম এসেছে। যিনি কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি এবং দেশে আর্থিক খাতের ব্যবসায় যুক্ত। তার স্ত্রী নিজেও সংরক্ষিত আসনের একজন এমপি।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। আমাদের মিশন এখনো খবর দেয়নি, আমরা এখনো জানি না। তবে এটা বোধহয় কোনো একটা পত্রিকাতে বের হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ওই পত্রিকাই বোধহয় বলেছে যে, এটার সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ আছে।
গত বুধবার আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ওই সংসদ সদস্য নিয়মিত কুয়েতে আসা-যাওয়া করলেও সেখান ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকেন না। কুয়েতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।
আল কাবাস থেকে উদ্ধৃত করে আরব টাইমস পরে আরেক প্রতিবেদনে লিখেছে, কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানির ছাড়পত্র পেতে কর্মকর্তাদের পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন বাংলাদেশের ওই এমপি।
তিনি তার সম্পদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিয়ে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা শুরু করেছেন।
আরও ১৭১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে
চীনের উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩১২ জনকে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে এরই মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা সবাই ভালো আছেন এবং বাড়ি চলে গেছেন। চীনের হুবেই প্রদেশে থাকা আরও ১৭১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, চীনে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। বেইজিংয়ে অবস্থিত ঢাকা মিশনের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, হুবেই প্রদেশে থাকা আরও ১৭১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। এদের মধ্যে ৩০ জন নিজেদের অর্থে দেশে ফিরতে রাজি আছেন বলে দূতাবাসে নাম নিবন্ধন করেছেন। তবে আমরা সবাইকেই ফিরিয়ে আনব। এ ব্যাপারে কাজ চলছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিরিয়ে নিয়ে আসার পুরো বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। ভাইরাসটি যেন ছড়াতে না পারে এ জন্য কিছু করণীয় আছে। তাই কবে নাগাদ এই ১৭১ জন ফিরবেন তার দিন-তারিখ এখনই বলা যাচ্ছে না।