আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
‘আমায় জীবিতের মর্যাদা দিন’, মন্ত্রীকে চিঠি লিখে এমন আবেদন জানালেন ব্যক্তি। তার অভিযোগ তাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে তার ‘মেয়ে’ সেজে এক মহিলা সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরে। অভিযোগকারী ধৃতিভানু পাল ন্যাশনাল ভেটারান্স ফাউন্ডেশনের (এনভিএফ) সাবেক কর্মী।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়, জলজ্যান্ত এক মানুষকে মৃত প্রতিপন্ন করার মতো ঘটনার পূণার্ঙ্গ তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আহবান জানিয়েছেন ধৃতিভানু।
তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমি বুঝে উঠতে পারছি না যে আমার বেঁচে থাকাটা মিথ্যা না সরকারি ডেথ সার্টিফিকেট মিথ্যা। জাল সার্টিফিকেটের কারবারীরা ভয়ঙ্কর প্রকৃতির হয়। আমি আমার প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা করছি।’
এনভিএফে নিয়োগ কেলঙ্কারিতে এবার সরকারি তদন্তে একাধিক ভুয়া ডেথ সার্টিফিকেটের সন্ধান মিলেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক ও এনভিএফের জেলা কম্যান্ডান্ট ডাই ইন হারনেস নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক মনোনীত প্রার্থীর পেশ করা কিছু ডেথ সার্টিফিকেটের সত্যতা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
কাগজে কলমে সেগুলো ওইসব পঞ্চায়েত থেকেই জারি করা।
ধৃতিভানু সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বলেন, ‘আমি চক্রান্তকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে দিদিকে বলোতে ফোন করেছিলাম। আবার স্পীড পোস্টের মাধ্যমে গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী, অসামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, জেলাশাসক এবং এসপির কাছে সুবিচার চেয়ে চিঠিও পাঠিয়েছি।’
ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি দীর্ঘদিন যাবৎ নিষ্ঠার সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশের সঙ্গে এনভিএফের কর্তব্য পালন করেছি। কিন্তু শারিরীক অসুস্থতার কারণে শেষ কয়েক বছর আর ডিউটি করতে পারিনি। আমি জেনেছি মধুমিতা পাল নামে একজন একবার নয় দুদুবার আমাকে মৃত দেখিয়ে আমার উত্তরাধিকারী সেজে এনভিএফে চাকরি পেয়েছেন। এই ভাবে আমার ডেথ সার্টিফিকেট বেরিয়ে গেল বৃদ্ধ বয়েসে সরকারি সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হব।’
এদিকে অভিযুক্ত মধুমিতার মা রীতা পাল দাস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার মেয়ের বিরুদ্ধ এই অভিযোগ সত্য নয়। কারণ, ধৃতিভানু পালের সঙ্গে তার বিবাহ ও মধুমিতার জন্মের পর ধৃতিভানু তাদের ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
প্রায় বিশ বছর নিখোঁজ ছিলেন। তিনি এরপর মানিকচন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে বিবাহ করেন। লোক মুখে শুনেছিলেন ধৃতিভানু হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। তৎকালীন গ্রাম পঞ্চায়েতকে স্বামীর নিখোঁজের কথা জানালে তারা ধৃতিভানুর ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে দেন।
তবে রাজ্য সরকার এই ব্যাপারে প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এর আগেই অসামরিক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাভেদ খান আশ্বাস দিয়েছিলেন, পুলিশে জানিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হয়তো ডেথ সার্টিফিকেটও জাল হয়েছে, এই সন্দেহও তিনি তখনই প্রকাশ করেছিলেন।