আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দশ হাজার ৪৬ জনে দাড়িয়েছে।
চীনের হুবই প্রদেশ থেকে উদ্ভূত এ ভাইরাসের কারণে দেশটিতে এ পর্যন্ত তিন হাজার ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে চীনে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে মারা গেছেন তিন জন।
চীনের একমাস পর ভাইরাসটি হানা দেয় ইতালিতে। সেদেশে মৃতের সংখ্যা বৃহস্পতিবার চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে।
দেশটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ৪০৫ জনের। বৃহস্পতিবার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪২৭ জনের। সেদেশে মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই কয়েকশো হারে বাড়ছে।
এদিকে, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। স্পেনে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮৩১ জনের।
জার্মানিতে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৪। ফ্রান্সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৭২ জন।
নেদারল্যান্ডসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৭৬ জন। বেলজিয়ামে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। সুইজারল্যান্ডে ৪৩ জন ও সুইডেনে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। সেদেশে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৪৪ জন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গিয়েছে ২১৭ জনের।
চীন ও ইতালির পরই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইরানে। সেদেশে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এক হাজার ২৮৪ জন।
এছাড়া চীনের প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৯৪ জনের। জাপানে মৃতের সংখ্যা ৩৩ জন। ভারতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪ জন।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৮ জনের শরীরে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের একেবারে শেষ দিকে চীনের উহান শহরে প্রথম নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে।
অন্য প্রদেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার পর ভিন্ন দেশেও ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়।
তখন এই ভাইরাসের নাম দেয়া হয় নভেল করোনাভাইরাস, আর এর ফলে সৃষ্ট রোগ নাম পায় কভিড-১৯, যার লক্ষণ জ্বর, মাথাব্যথা ও শ্বাসজনিত সমস্যা।
শুরুতে চীনে মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকলেও মাস দুয়েকের মধ্যে তারা পরিস্থিতি অনেকটাই সামলে নিতে পেরেছে।
যে হুবেই প্রদেশে থেকে এই ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ঘটেছিল বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে বুধবার প্রথমবারের মতো কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি।