আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রানঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় টানা ১০ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সরকারের এমন ঘোষণার পর লোকজনের বাড়ি যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। এজন্য স্টেশনগুলোতে অগ্রিম টিকেট পেতে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। নগরীর কমলাপুর রেল স্টেশন, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যার পর উপচানো জনস্রোত রূপ নেয় ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার ভিড়ে। বাস কাউন্টারে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে টিকেটের অপেক্ষায় দাঁড়ায় হাজার মানুষ। অগ্রিম প্রস্তুতি না থাকায় যাত্রীদের চাপে হিম সিম খেতে হচ্ছে রেলওয়েকে। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়ার পর ট্রেনগুলোও ছাদেও অনেককে উঠে পড়তে দেখা যায়। একই অবস্থা ছিল সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালেও। করোনা পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন লঞ্চগুলো যাত্রী না পেলেও এদিন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গন্তব্যের পথে ছুটে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৬ তারিখ থেকে সাধারণ ছুটির ঘোষণা থাকায় ২৫ তারিখ রাতে এবং ২৬ তারিখ সকালের ট্রেনে টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
অগ্রিম টিকিট প্রত্যাশীদের অধিক ভিড়ের কারণে স্টেশনে লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এমন লাইন ছিল যাত্রীদের। কাউন্টারে দাঁড়িয়ে অগ্রিম টিকিট নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও যথেষ্ট চাহিদা ছিল রেলের টিকিটের।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, স্টেশনে আগের তুলনায় যাত্রীদের কিছু ভিড় আছে। কয়েক দিনের ছুটি পেয়ে সবাই গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য টিকিট কাটছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালের একজন শ্রমিক জানান, সন্ধ্যার পর পর বাড়ি যাওয়ার জন্য পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকে টার্মিনালে ভিড় করে। এ সময় মানুষের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। হঠাৎ করে যাত্রীদের এমন চাপ দেখা দেওয়ায় পরিবহন মালিকরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছে।
সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতেও যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। মুন্সীগঞ্জের চরকিশোরগঞ্জে মেঘনা নদীর চরে গ্রিন ওয়াটার-১০ নামে ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরগামী একটি লঞ্চ জরুরি নোঙর করেছে। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী বহনের ফলে ঢেউয়ের তোড়ে লঞ্চের ডেকে পানি উঠে যায়। তবে দ্রুত লঞ্চটিকে নদীর চরে নোঙর করতে সমর্থ হন চালক। রক্ষা পান প্রায় সাড়ে ৮০০ যাত্রী। সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিচুর রহমান জানান, এ ঘটনায় যাত্রীদের কেউ হতাহত হননি। লঞ্চটি নদীর চরে নোঙর করা হয়েছে। অন্য একটি লঞ্চ ঢাকা থেকে রওনা হয়েছে। সেটি আসলে যাত্রীদের সেই লঞ্চে করে গন্তব্যে পাঠানো হবে।
এছাড়াও সরকারি ছুটি ঘোষণার পর রাজধানীর নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতেও বেড়ে যায় ক্রেতাদের ভিড়। রাজধানীর নিউ মার্কেট কাঁচাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা চাল, ডাল, তেল, আটাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য কেনাকাটা করছেন। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি ছুটি ঘোষণার পরেই ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্রেতাই বেশ কয়েকদিনের কেনাকাটা এক সাথেই করছেন।
করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। এছাড়া মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে নগরবাসীদের বাড়ি যাওয়ার এমন হিড়িক দেখা দেওয়ায় রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি দেশজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধের দাবি উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এ নিয়ে আওয়াজ তুলছেন।