আকাশবার্তা ডেস্ক :
মাঠে নেমেছে বাংলাদেশে সেনাবাহিনী। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করবে তারা।
ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে চারটি প্রধান ক্যাম্প এবং ১৭টি সাব ক্যাম্পের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে মাঠে থাকবেন তারা।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাতে বাড়ির বাইরে যেতে না পারে এবং একসঙ্গে যাতে দুইজন চলাফেরা না করে, এই নির্দেশনা মানাতে বুধবার সকাল থেকে মাঠে রয়েছে সশস্ত্রবাহিনী।
শহরগুলোতে সার্বিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী। যেসব এলাকা নদী বেষ্টিত ওইসব এলাকায় নৌবাহিনী এবং জরুরি ওষুধ সরবরাহ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করবে বিমানবাহিনী।
করোনা ভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের পরে ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটিও যোগ হবে। এছাড়া ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি এ ছুটির সঙ্গে যোগ হবে।
তবে এ ছুটি কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবার জন্য প্রযোজ্য হবে না। এসময় যদি কোনো অফিস-আদালতের প্রয়োজন হয় তাহলে তা অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারি নির্দেশনা না মেনে ঘরের বাইরে যারা অযথা ঘোরাঘুরি করবেন এবং যারা হোম কোয়ারেনটাইন মানছেন না তাদের প্রতি কঠোর হবেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সেনাবাহিনী গতকাল থেকেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। গতকাল ছিল মিটিং আর আজ মাঠে রয়েছে সৈন্যরা। তবে কোথায় কত প্লাটুন সেনা সদস্য রয়েছে তা বলতে পারছি না।’
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মত ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশও কার্যত অবরুদ্ধ দশার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।
প্রায় সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে; আক্রান্ত হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ।
আর বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৩৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যাদের চারজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে অতি সংক্রামক এই ব্যাধি বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে কী পরিণতি ঘটবে- তা নিয়ে সবার মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ-আতঙ্ক।
জনসমাগমে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে বলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা এসেছিল আগেই।
আক্রান্তের সংখ্যা ত্রিশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর সোমবার সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব অফিস-আদালতে ছুটি ঘোষণা করে।