আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর সম্মিলিতভাবে আমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি করেছে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস।
এ মহামারির ইতি টানতে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে অবিলম্বে সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস।
এই সঙ্কট মন্দা নিয়ে আসতে পারে ‘সম্ভবত যার সমান্তরাল নজির সাম্প্রতিক ইতিহাসে নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য আর্থসামাজিক প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ধরনের বিপর্যয় আর পৃথিবীতে আসেনি।
করোনাভাইরাস যেনো দুনিয়াব্যাপী দাবানল সৃষ্টি করেছে। সেই দাবানলের হাত থেকে বাঁচতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নতুন করোনাভাইরাস রোগ সমাজগুলোর মর্মমূলে আঘাত হানছে, মানুষের জীবন ও জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে।
জাতিসংঘ গঠিত হওয়ার পর থেকে কোভিড-১৯ আমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
সংক্রমণ রোধ করতে ও মহামারীর ইতি ঘটাতে আশু সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগ নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতি স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সাহায্য করার আর্জি জানিয়েছেন, না হলে ‘দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া রোগটির দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হতে হবে’ বলে সতর্ক করেছেন।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই মহামারি কঠিন অর্থনৈতিক মন্দা এনে দিতে পারে, যার সমকক্ষ সম্ভবত বিগত অতীতে দেখা যায়নি।
আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য প্রভাব’ শীর্ষক জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন প্রকাশকালে এ আশঙ্কার কথা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এই নতুন করোনাভাইরাস সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানছে, হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে।
এই অবস্থায় সংক্রমণ কমাতে ও এই মহামারির শেষ দেখতে জরুরি ভিত্তিতে ও সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ে সাড়া দিতে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান।
একইসঙ্গে, এই সংকটময় মুহূর্তে স্বল্প উন্নত দেশগুলোর সহায়তায় শিল্পোন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় কোভিড-১৯ রোগের বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সকালে যে হাল নাগাদ তথ্য দিয়েছে, তাতে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন আট লাখ ৬০ হাজারের কাছাকাছি আছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।