আকাশবার্তা ডেস্ক :
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে গণপরিবহন বন্ধের যে সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল সেই সময় বাড়িয়েছে সরকার।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
তবে, জরুরি সার্ভিসের জন্য পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জ্বালানি, পচনশীল দ্রব্য, ত্রাণবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। কিন্তু পণ্যবাহী পরিবহন ও ট্রাকে কোনোভাবেই যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।
শনিবার (৪ এপ্রিল) তার সরকারি বাসভবন থেকে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
করোনাভাইরাস বাংলাদেশে যেন ব্যাপক আকারে ছড়াতে না পারে সেজন্য সরকার নৌপথে লঞ্চ, রেলপথে মেইল ও লোকাল ট্রেন বন্ধ করে দেয়। পরে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গণপরিবহনও বন্ধ করা হয়। আজ শেষ দিন ছিল।
কিন্তু আজও বাংলাদেশে দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এছাড়া নতুন করে নয়জন আক্রান্ত হন, যা একদিনে আক্রান্তের সংখ্যায় দেশে সর্বোচ্চ। এমন অবস্থায় ঝুঁকি এড়াতে গণপরিবহন বন্ধের সময় বাড়ানো হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সাধারণ ছুটির মধ্যে যানবাহনের ফিটনেস কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে জরিমানা ছাড়া নির্ধারিত ফি ও কর দিয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত লাইসেন্স আবেদন করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পাড় অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশপাশি সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এগিয়ে আাসার আহ্বান জানান।
তবে সামাজিক দূরত্ব ও জমায়েত যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক ভালো। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথাসময়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের কারণেই সম্ভব হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু ও ১০ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে মারা গেছেন ৮জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন।