আকাশবার্তা ডেস্ক :
এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সেরা বিদ্যালয়ের সেরা সাফল্য অর্জন করেছে লক্ষ্মীপুরের প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। কুমিল্লা বোর্ডের অধীন এ বিদ্যালয়টি শুধু জেলার প্রথমস্থান নয় কুমিল্লা বোর্ডেও সেরা দশের তালিকায় ৮মস্থান দখল করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ মে) কুমিল্লা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল বিবরণের সার্বিক মূল্যায়নে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে মাত্র ১৪টি বিদ্যালয় শতভাগ পাস করে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরের শতভাগ প্রাপ্ত একমাত্র স্কুল প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। নোয়াখালীতে ২টি স্কুল শতভাগ পাস করে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে নোয়াখালী জিলা স্কুল।
বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষনে দেখা যায়, প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতভাগ পাস এবং ৩৮ জন জিপিএ-৫, জিপিএ (এ) ১২৫ জন, জিপিএ (এ-) ৭৬ জনসহ প্রাপ্ত ফলাফলে মোট জিপিএ র্যাংকিং ১১১০.১৫। এ বিদ্যালয়ের ২৬৩ জন পরীক্ষার্থীর গড় জিপিএ হচ্ছে ৪.২২।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের ১৯ জন জিপিএ-৫, জিপিএ (এ) ৬৫ জন, জিপিএ (এ-) ৩৫ জনসহ প্রাপ্ত মোট জিপিএ র্যাংকিং ৫০০.৩৯। এ বিদ্যালয়ের ১২৭ পরীক্ষার্থীর গড় জিপিএ ৪.০৭।
অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নিজেদেরকে লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রথমস্থান দাবি করে সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করছে।
আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গড় জিপিএ ৩.৩৭ এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের গড় জিপিএ ৩.৩৬।
নোয়াখালী জিলা স্কুলের গড় জিপিএ ৪.৬৯। এ বিদ্যালয় থেকে ২৭১ জন পরীক্ষা দিয়ে সবাই কৃতকার্য হয়। তাদের জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৪ জন।
কুমিল্লা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সেরা দশের তালিকায় নোয়াখালী জিলা স্কুল ৭মস্থান এবং লক্ষ্মীপুরের প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ৮মস্থানে রয়েছে।
অভূতপূর্ব ফলাফল এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৮মস্থান অধিকারী প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এম আলাউদ্দিন বলেন, শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় এবার এসএসসিতে ভালো ফলাফল অর্জিত হয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এই ধারা অব্যাহত থাকে সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ভালো ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবেনা।
প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনার পাশাপাশি নিজস্ব কারিকুলামে পাঠদান করে থাকি। এক্ষেত্রে সরকারি অনেক ছুটি আমরা ভোগ করিনা। শিক্ষকদের সহযোগিতায় ছুটির দিনেও অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হয়। যার কারণে আমরা ভালো ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতেও একই ধারা অব্যাহত রাখতে অভিভাবকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।