আকাশবার্তা ডেস্ক :
জনসাধারণকে সচেতন করতে এসে, ত্রাণ দেয়া, রোগীকে হাসপাতালে নেয়া, জানাযা করা, টহল চৌকি স্থাপন, মাইকিং করাসহ থানার সাধারণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে পুলিশ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে বলে মনে করেন, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সরদার, বিপিএম, পিপিএম।
মঙ্গলবার ( ০৫ মে ) বেলা ১১ টায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাস্থ নতুন সোনাকান্দা পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন এবং অফিসার ও ফোর্সদের করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা ও সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্রীফিং কালে এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি পুলিশ কে উদ্যেশ্য করে বলেন, ভয় নয়, সতর্ক ও সজাগ থেকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত হওয়ার আগেই নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য সবাইকে সুস্থ থাকতে হবে। পুলিশ অনেক বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এই ভেবে মনোবল হারালে চলবেনা। পিপিই, হ্যান্ড সেনিটাইজার, গ্লাভস ও সানগ্লাস পরিধান করতে হবে। দেশ, দশ, সর্বোপরি নিজের পরিবারের জন্য হলেও সুস্থ থাকতে হবে।
কেরানীগঞ্জে ২৯ জন, শুধু মাত্র মডেল থানায় ২৭ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের থানাটি দেশের সব চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা জিনজিরার প্রাণ কেন্দ্রে হওয়ায় এখানে বেশি সংক্রামিত হচ্ছে। তবে আক্রান্তদের ব্যপারে আমরা সিরিয়াস। তাদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা, তাদের পরিবারের খোজ খবর রাখা সহ সব কিছুই করছে ঢাকা জেলা পুলিশ।
এসময় তার সাথে ছিলেন কেরানীগঞ্জ সার্কেলের এডিশনাল এসপি রামানন্দ সরকার, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মইনুল ইসলাম, নতুন সোনাকান্দা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মাহমুদ আলম সহ অনেকে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেল রামানন্দ সরকার বলেন, সারা দেশে নয় শতাধিক পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত। তাদের সবচেয়ে বেশী ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে জনমানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আজ দেশের এই কঠিন মুহূর্তে ইতোমধ্যে পুলিশ সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে ৬ পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছেন। আমরা সেসব শহীদ পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি। এছাড়া যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সবাইকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কেরানীগঞ্জে এই পর্যন্ত ২৯ পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছে, যাদের বয়স ২৪ থেকে ৫৫ বছর। এর মাঝে ১০ জন আইসোলেশন আছে। এবং এক পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।