আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার মানুষ একজনকেই তাদের রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে দেখেছে: ভ্লাদিমির পুতিন।
১৯৯৯ সালে তাকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছিল। তারপর থেকে তিনিই আসলে রাশিয়ার সর্বময় ক্ষমতাধর নেতা। কখনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে, কখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
২০০০-২০০৮ পর্বে তিনি ছিলেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এরপর ২০০৮-২০১২ সালে চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর পদে। তারপর ২০১২ সালে আবার ফিরে এলেন প্রেসিডেন্ট পদে।
প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনো বলেননি যে, তিনি আবার নির্বাচনে দাঁড়াতে চান। কিন্তু তিনি প্রার্থী হবেন না, এমন কথাও বলেননি। এ কারণে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন তিনি আসলে আজীবন প্রেসিডেন্ট থাকার ছক আঁটছেন। অন্তত ২০৩৬ সাল পর্যন্ত।
আরও দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বৈধতা দিয়ে সংবিধান সংশোধনের গণভোটের প্রাথমিক ফলাফলে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার সংবিধানে এক ব্যক্তির টানা দুবারের বেশি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
তবে কখনও প্রধানমন্ত্রী আবার কখনও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা পুতিন গত জানুয়ারিতে আরও দুবার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের বিধান রেখে সংবিধান সংশোধনের খসড়ায় স্বাক্ষর করেন।
১ জুলাই গণভোট অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও করোনার কারণে ভিড় এড়াতে এক সপ্তাহ আগে ভোটকেন্দ্র খুলে দেয়া হয়। গেলো বুধবার ভোটগ্রহণ শেষে ফল প্রকাশও শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির কর্মকর্তা পুতিন আরও দুই মেয়াদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বৈধতা পাচ্ছেন।
এর মানে হচ্ছে, নির্বাচনে জিতলে চলতি মেয়াদসহ আরও ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন তিনি।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল গণনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।