আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা আছে।
চলতি বছরের ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থগিত পরীক্ষার পরবর্তী সময় ঘোষণা না করায় অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী।
তবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে শুরু হতে পারে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পরীক্ষা শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রে আরো জানা যায়, ‘বর্তমানে সবকিছু সচল হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নতুনভাবে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে।’
‘স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এজন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। নতুনভাবে কেন্দ্র বাড়িয়ে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।’
এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অন্তত ১৫ দিন পর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে পর্যায়ক্রমে দেশের সব খাত সচল হতে শুরু হওয়ায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের কাছে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চলতি বছর সারাদেশে কোথায় কোন কেন্দ্রে কতজন পরীক্ষার্থী রয়েছে সে তথ্য পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত কেন্দ্র হিসেবে পরীক্ষা নেয়া হবে।
এদিকে, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির এবারের সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করতে প্রস্তাব যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
সরকারপ্রধানের অনুমোদন পেলে এবার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা নেয়া হবে না।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আকরাম-আল-হোসেন মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, মুখ্য সচিবের সঙ্গে তিনজন সচিবের (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ) একটি সভা হয়েছে, সেখানে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ওই সভার প্রেক্ষিতে আমাদের এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে, আমরা সারসংক্ষেপ তৈরি করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সারসংক্ষেপ তৈরি করছে। আগামী রবি-সোমবারের মধ্যে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।”
এবার যাতে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী এবং জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নিতে না হয় সেজন্য এই সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে জানিয়ে সচিব আকরাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে এবার আর এই পরীক্ষা হবে না।”
ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বেডু জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৮৪টি দেশ পাবলিক বা এ ধরনের পরীক্ষা বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু রাখা গেলে এই তিন মাসের শ্রেণি কার্যক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি শেষ করা যায়। সেজন্য শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি সঙ্কোচন করে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে।