আইন আদালত ডেস্ক :
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর মামলায় প্রথম আলোর ‘কিশোর আলোর’ সম্পাদক আনিসুল হকসহ পাঁচ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে আসামিরা আইনজীবীদের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিনের আদেশ দেন। একই সাঙ্গে পূর্বের ৫ জনের মালামাল ক্রোকের আদেশও প্রত্যহার করেন আদালত।
অপর আসামিরা হলেন- প্রবীর বকুল, শুভাসিষ প্রামাণিক শুভ, মুহিতুল আলম পাভেল ও শাহ পুরান তুষার।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর এই পাঁচ আসামি সম্পত্তির ক্রোকের আদেশ দেন বিচারিক আদালত। ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর সিএমএম আদালতে আবরারের বাবা মামলাটি দায়ের করেন।
২০১৯ সালের ১ নভেম্বর মাসিক ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান দেখতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরারের মৃত্যু হয়। সে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম (গ) শ্রেণির (দিবা) শিক্ষার্থী ছিল।
আবরারের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর সিএমএম আদালতে আবরারের বাবা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কিশোরদের মাসিক সাময়িকী কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে নাইমুল আবরার যান। অনুষ্ঠান চলাকালে সাড়ে তিনটার দিকে আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অনুষ্ঠানের জন্য যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয় তা অরক্ষিত ছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার যে নিরাপত্তা ও সাবধানতার প্রয়োজন ছিল তা নেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থলের খুব কাছেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থাকলেও আবরারকে মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যান।
নাইমুল আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট পৃষ্ট হওয়ার পর বিকেল চারটা ৫১ মিনিটে চিকৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আবরারের মৃত্যুর সংবাদ কিশোর আলো এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ গোপন করে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালিয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ আবরারের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়নি। আবরারের পরিবার এক সহপাঠীর মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পান। যা একটি পরিকল্পিত, গাফিলতি এবং অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ।