আকাশবার্তা ডেস্ক :
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ৩৭ জনের মধ্যে এক শিশু ও মুয়াজ্জিনসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।
মৃত ১১ জন হলেন- রিফাত (১৮), মোস্তফা কামাল (৩৪), জুবায়ের (১৮), সাব্বির (২১), কুদ্দুস ব্যাপরী (৭২), হুমায়ুন কবির (৭০), ইব্রাহিম (৪৩), মোয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮), জুনায়েদ (১৭), জামাল (৪০) ও শিশু জুবায়ের (৭)।
ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, এ পর্যন্ত এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় শিশু ও মুয়াজ্জিনসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে বার্ন ইউনিটের সহকারী পরিচালক ডা. হুসেইন ইমাম জানান, সব দগ্ধদেরই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। রোগীদের শরীরের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আহত রোগীদের সবারই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের জন্য একটা ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করা হয়েছে। তাদের দেখতে এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এদের সবারই চিকিৎসা চলবে। রোগীদের কার কী অবস্থা এটি কাল নাগাদ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে। তবে কেউই শঙ্কামুক্ত নন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ওই মসজিদের যে বিস্ফোরণ হয়েছে তা এসি বিস্ফোরণ নাকি গ্যাস লিকেজ থেকে হয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা ঘটনার পর মসজিদে গ্যাস ডিটেক্টর দিয়ে পরিমাপ করেছেন। মসজিদের ভেতরে প্রায় ৭০ ভাগ মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিস্ফোরণের কারণ নির্ণয় করবেন।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুল সালাহ জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ বাকি ২৬ জন মুসল্লি শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে।
এদিকে ওই ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ২৬ জনের মধ্যে সবাই মেজর বার্ন। প্রাথমিকভাবে অ্যাসেসমেন্ট চলছে, তবে কারও অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। দগ্ধদের অনেককে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।